ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কুয়াকাটায় ছিন্নমূল ও অসহায়দের জন্য “চেষ্টা” সংগঠনের বস্ত্র বিতরণ বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত এআই যুগে শ্রমিক নায্য অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৪, বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা

​ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন রোগীদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মোট ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
​মোট ভর্তি (১৭ মার্চ – ৬ এপ্রিল): ২৪৮ জন শিশু।
​সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ১৭০ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন)।
​মোট মৃত্যু: ৬ জন।
​ল্যাব নিশ্চিত আক্রান্ত: ৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
​সংক্রমণের শুরু ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা

​চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
​বিশেষায়িত ওয়ার্ড: বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে।
​মেডিকেল টিম: রোগীদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষায়িত ৩টি মেডিকেল টিম।
​লক্ষণ: আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

​মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যু না হওয়া কিছুটা স্বস্তির হলেও সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগজনক। আমরা পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল দিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা মাত্রই কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
​সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা নিশ্চিত করুন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় ছিন্নমূল ও অসহায়দের জন্য “চেষ্টা” সংগঠনের বস্ত্র বিতরণ

​ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৪, বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা

আপডেট সময় ০১:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

​ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন রোগীদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মোট ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
​মোট ভর্তি (১৭ মার্চ – ৬ এপ্রিল): ২৪৮ জন শিশু।
​সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ১৭০ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন)।
​মোট মৃত্যু: ৬ জন।
​ল্যাব নিশ্চিত আক্রান্ত: ৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
​সংক্রমণের শুরু ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা

​চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
​বিশেষায়িত ওয়ার্ড: বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে।
​মেডিকেল টিম: রোগীদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষায়িত ৩টি মেডিকেল টিম।
​লক্ষণ: আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

​মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যু না হওয়া কিছুটা স্বস্তির হলেও সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগজনক। আমরা পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল দিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা মাত্রই কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
​সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা নিশ্চিত করুন।