আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মাহমুদা আক্তার। ইতোমধ্যে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর ফুলবাড়িয়া রোড বাইলেন এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ১৯৮৯ সালে নাসিরাবাদ মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে তিনি জাসাসের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাহমুদা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করব এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (মহিলা), ময়মনসিংহ থেকে এমএড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লাইব্রেরি সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি নাসিরাবাদ মহাবিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে প্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কারখানা ব্যবস্থাপক এবং কেয়ার বাংলাদেশে ডিআইসি ইনচার্জ ও মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও কাজ করেছেন।
পারিবারিকভাবে মাহমুদা আক্তার একটি সুপরিচিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তার পিতা মরহুম গোলাম মাওলা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি নাসিরাবাদ নৈশ কলেজের বার্ষিকী সম্পাদক এবং নাসিরাবাদ কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মাতা মরহুমা বেগম বীণা মাওলা ছিলেন গৃহিণী ও ময়মনসিংহ রাইফেলস ক্লাবের একজন শুটার।
তার পরিবারের একাধিক সদস্য রাজনীতি, শিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বড় ভাই কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ময়মনসিংহ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি নাসিরাবাদ কলেজ ছাত্র সংসদের দুইবারের ভিপি ছিলেন।
আরেক বড় ভাই রেজাউল করিম মো. মাসুদ ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যা মাহমুদা আক্তারের সামাজিক ও রাজনৈতিক পথচলায় প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন। “আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। সেই জায়গা থেকেই দল ও দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি—বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, মাহমুদা আক্তার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল ও ভারত ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 
























