সরকারি যানবাহন কেনার মূল্যসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে নতুন নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকে যানবাহন ক্রয়ের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি ও নন-এসি) ও ট্রাকের বর্তমান দাম বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে এই মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন মূল্যসীমা মূলত ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাজারে সব ধরনের গাড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সব ধরনের যানবাহনের মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দফায় নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্দেশনায় আগের তালিকার বাইরে থাকা আরও কয়েকটি খাতে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য এসি মিনিবাস (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় নন-এসি বাস (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে মাইক্রোবাসের মূল্যসীমা ৫২ লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এদিকে, প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এবার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) মূল্যসীমা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এসব গাড়ি মূলত গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হয়। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৬৫ লাখ টাকা মূল্যসীমা বহাল রয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের মূল্যসীমা ৩৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। যদিও ডাবল কেবিন পিকআপের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি। তবে গত ৬ মার্চ এই গাড়ির মূল্যসীমা ৫৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৫ টনের ট্রাকের মূল্যসীমা ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা, ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল রিপোর্ট 






















