যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টা যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় শার্শা মিনি স্টেডিয়াম থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে যশোর–বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে থানা মোড়ে গিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ সৃষ্টি হয়।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন এবং উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়। ঘোষিত মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও হতাশা।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কর্মীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় সম্পর্ক, তাদের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে ‘সংস্কারপন্থি’ একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আজ বিক্ষোভ নামেন তারা। দুপুর ৩টার পর থেকে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকে শার্শা স্টেডিয়াম মাঠে। এর মধ্যে কিছু অংশগ্রহণকারী কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পরে মিছিলে অংশ নেন তারা।
এ সময় তারা শার্শা বাঁচাও, সংস্কারপন্থি তৃপ্তিকে হটাও, বিএনপি বাঁচাও, মনোনয়ন পরিবর্তন চাই, ত্যাগীদের সম্মান চাই, জনগণের প্রার্থী চাই, এমন নানা স্লোগানে মুখরিত করে রাজপথ। পরে মিছিলটি যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, আমাদের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থী নেই। তবে গত ১৭ বছরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন, তারা মনোনয়ন পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ। চূড়ান্ত তালিকার আগে আমরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া স্থানীয় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তৃপ্তি সংস্কারপন্থি হওয়ায় উপজেলার ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এই মনোনয়ন মানি না। মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কঠোর আন্দোলন চলবে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ত্যাগী, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কাউকে মনোনয়ন দিলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন। অন্যথায় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিক্ষোভকে শার্শায় বিএনপির অন্যতম বড় জনসমাগম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির বলেন, কোনো প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। তাদের দাবি যৌক্তিক। তাদের একটাই দাবি যে এই আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হলে বহিষ্কৃত এবং সংস্কারপন্থি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেয়া যাবে না। তার মনোনয়ন পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের থানার মানুষের যে সেন্টিমেন্ট এটি বাস্তবতা। আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। আমার বক্তব্য হলো যে আমরা শার্শার মাটিতে বিএনপিকে টিকে রাখার জন্য জেল খেটেছি, মার খেয়েছি, রক্তাক্ত হয়েছি। সাবেক এমপি আফিলের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। এত বড় সন্ত্রাসী ছিল আফিল এমপি, হাজার কোটি টাকার মালিক। তার অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে আমরা বিএনপি করেছি। বুকে বুলেট নিয়ে এখানে আমরা ফাইট করেছি, বিএনপির নেতাদেরকে আমরা টিকিয়ে রাখছি। আমরা চাই আমরা যারা মাঠে ছিলাম, আমরা মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হোক, এটা তৃণমূলের মানুষেরও দাবি।

অনলাইন ডেস্ক 






















