জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে রংপুরে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর মহানগর ও জেলা নেতাদের ওপর মহানগর ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুবশক্তির নেতাদের দাবি, তাদের পাঁচ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইফতার মাহফিলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয়আসাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছার যুবশক্তির পাঁচকর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড ছিল না। ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি তাদের ঢোকাতে যান। তখন ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন।
আলমগীর নয়নের অভিযোগ, ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিমুজ্জামান হৃদয়সহ কয়েকজন গেটে তাকে দুই দফায় ধাক্কা মারে। তাকে বাঁচাতে গেলে যুবশক্তির জেলা কমিটির সংগঠক রাশেদুজ্জামান ও বদরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আকাশ ইসলামকে মারধর করা হয়।
রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ আলমগীর নয়নের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমতিয়াজ আহম্মদ বলেন, নিজেদের মধ্যে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। টুকিটাকি ঝামেলা হয়েছে, সেটা মিউচুয়াল হয়েছে।
রংপুর জেলা ও মহানগর যুবশক্তির নেতাদের অভিযোগ, হামলার প্রতিবাদ করার কারণে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের পর যুবশক্তির মহানগরের সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকিরকে দুই দফায় ফারহান তানভীর, রাজিমুজ্জামান হৃদয়, যুগ্ম সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, সংগঠক নাঈম, জেলা কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য তাহমীদসহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
রংপুরের বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ বলেন, তাকে টেবিলের কাঠ দিয়ে মারধর করার এক পর্যায়ে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে স্টেডিয়ামের মাঠে গিয়ে পড়ে যান। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন জেলা যুবশক্তির সংগঠক লেমন শাহ, জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক সীমান্ত হোসেনসহ চার-পাঁচজন।
মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ ছাড়াও লেমন শাহ ও রাশেদুজ্জামান কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। এটা নিয়ে আমাদের হাউসে মিটিং হচ্ছে। এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট (বক্তব্য) দেওয়ার কিছু নেই। তেমন কিছু হয়নি ওখানে। মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে।
রাজিমুজ্জামান দাবি করেন, হামলা বা কারও গায়ে আঘাত করা হয়েছে—এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়। নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করে মীমাংসা করা হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমরা বসেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিটাল রিপোর্ট 




















