ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ

লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ । শিক্ষা অফিস জানে না নির্ধারিত ফিস, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফিস আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফিসের চেয়ে বেশি টাকা আদায় এবং ভাউচার ছাড়া অর্থ গ্রহণের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিতে গেলে কোনো অফিসিয়াল রসিদ বা ভাউচার ছাড়াই সাদা কাগজে ৫০০ টাকা লিখে ফিস নেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে ফিস না দিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুহার অভিভাবক আসমানী আক্তার জানান, রেজিস্ট্রেশন ফিস হিসেবে ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়েছে। কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।

একই অভিযোগ করেন বৃষ্টি আক্তারের অভিভাবক আকাশ মিয়া। তিনি বলেন, প্রতিবারই এমনভাবে টাকা নেওয়া হয়। কোথাও অভিযোগ করে লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়েছি।

বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ বলেন, এর আগে বই বিক্রি নিয়েও এলাকায় তুলকালাম হয়েছিল, কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। তাই এবারও প্রতিবাদ করিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশন ফিস সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। এর বেশি নেওয়ার বিধান নেই। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট অঙ্ক সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভর্তির জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি, তাই রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভাউচার বা অফিসিয়াল রসিদ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, ৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে নির্ধারিত ফিসের বাইরে আদায় করা অর্থ ফেরত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেছেন

লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ । শিক্ষা অফিস জানে না নির্ধারিত ফিস, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফিস আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফিসের চেয়ে বেশি টাকা আদায় এবং ভাউচার ছাড়া অর্থ গ্রহণের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিতে গেলে কোনো অফিসিয়াল রসিদ বা ভাউচার ছাড়াই সাদা কাগজে ৫০০ টাকা লিখে ফিস নেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে ফিস না দিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুহার অভিভাবক আসমানী আক্তার জানান, রেজিস্ট্রেশন ফিস হিসেবে ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়েছে। কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।

একই অভিযোগ করেন বৃষ্টি আক্তারের অভিভাবক আকাশ মিয়া। তিনি বলেন, প্রতিবারই এমনভাবে টাকা নেওয়া হয়। কোথাও অভিযোগ করে লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়েছি।

বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ বলেন, এর আগে বই বিক্রি নিয়েও এলাকায় তুলকালাম হয়েছিল, কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। তাই এবারও প্রতিবাদ করিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশন ফিস সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। এর বেশি নেওয়ার বিধান নেই। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট অঙ্ক সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভর্তির জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি, তাই রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভাউচার বা অফিসিয়াল রসিদ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, ৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে নির্ধারিত ফিসের বাইরে আদায় করা অর্থ ফেরত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।