ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগ টানতে চীনে নতুন কার্যালয় খুলছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক সম্পর্ক জোরদারের পথে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নওগাঁ সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ বিএসএফ, ৯ জনকে ফেরত নিল ভারত ​মহাকাশে বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’: গবেষণায় নতুন দিগন্ত! ইতালিতে তীব্র তাপপ্রবাহের তাণ্ডব: আরও ৪ জনের মৃত্যু নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির বড় বার্তা: দুর্দান্ত জয়ের পর নতুন জল্পনা ​৭ ঘণ্টা পরও সচল হয়নি ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ, চরম ভোগান্তি হরমুজে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি: ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রবেশের হুঁশিয়ারি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কার পরিষদের শপথ সম্ভব নয় বললেন আমীর খসরু

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার আগে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’–এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আমীর খসরু স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সংসদীয় কার্যক্রম অবশ্যই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। সংবিধানের বর্তমান কাঠামোতে সংস্কার পরিষদের শপথের কোনো বিধান না থাকায় এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথের প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপি তাতে অসম্মতি জানায়।

বিএনপি এই শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তারা শপথ নেবেন কি নেবেন না, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমরা মনে করি, জনগণের রায় ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে সংসদে শপথ নেওয়া অপরিহার্য।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি সংবিধান মেনে চলার এই নীতিগত অবস্থান নিয়েছে এবং আগামী দিনেও তারা সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সকল সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বিএনপির এই অনড় অবস্থানের কারণে সংসদের শপথ অনুষ্ঠানে বড় ধরনের ছন্দপতন লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কেবল বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর পরবর্তী কার্যক্রম থমকে যায়। বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এই আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা নিরসনে সংসদ সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দফায় দফায় আলোচনা করলেও বিরোধী জোট তাদের দাবিতে অনড় থাকায় সংসদের প্রথম দিনেই এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকেলের মূল শপথ অনুষ্ঠানের আগেই এই সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কার পরিষদের শপথ সম্ভব নয় বললেন আমীর খসরু

আপডেট সময় ০২:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার আগে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’–এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আমীর খসরু স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সংসদীয় কার্যক্রম অবশ্যই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। সংবিধানের বর্তমান কাঠামোতে সংস্কার পরিষদের শপথের কোনো বিধান না থাকায় এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথের প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপি তাতে অসম্মতি জানায়।

বিএনপি এই শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তারা শপথ নেবেন কি নেবেন না, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমরা মনে করি, জনগণের রায় ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে সংসদে শপথ নেওয়া অপরিহার্য।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি সংবিধান মেনে চলার এই নীতিগত অবস্থান নিয়েছে এবং আগামী দিনেও তারা সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সকল সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বিএনপির এই অনড় অবস্থানের কারণে সংসদের শপথ অনুষ্ঠানে বড় ধরনের ছন্দপতন লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কেবল বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর পরবর্তী কার্যক্রম থমকে যায়। বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এই আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা নিরসনে সংসদ সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দফায় দফায় আলোচনা করলেও বিরোধী জোট তাদের দাবিতে অনড় থাকায় সংসদের প্রথম দিনেই এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকেলের মূল শপথ অনুষ্ঠানের আগেই এই সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।