৪৪তম বিসিএস। স্বপ্নের বিসিএস।সেই তালিকা থেকেই ১০১ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরেও বাতিল!কারণ হঠাৎ যোগ্যতার ঘাটতি!প্রশ্ন হলো, এতদিন কোথায় ছিল সেই যোগ্যতা যাচাই?
প্রিলিমিনারি হলো, লিখিত হলো, ভাইভা হলো, ফলাফলও প্রকাশ হলো তারপর হঠাৎ করে মনে পড়লো, ওরা যোগ্য না ? এটা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি প্রার্থীদের জীবন নিয়ে নির্মম তামাশা ?একজন চাকরিপ্রার্থী বিসিএসের জন্য বছরের পর বছর ঘুম হারাম করে।পরিবারের স্বপ্ন, নিজের ভবিষ্যৎ সবকিছু বাজি রাখে। আর আপনারা কী করলেন ? চূড়ান্ত ধাপে এসে বললেন, “দুঃখিত, আপনি অযোগ্য!” তাহলে আগে কী করছিলেন?যোগ্যতা যাচাই কি পরীক্ষার আগেই হওয়ার কথা না ? নাকি পুরো সিস্টেমটাই এখন কাগজের খেলায় পরিণত হয়েছে?
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো এই সিদ্ধান্ত শুধু ১০১ জনকে বাদ দেয়নি, এটা লাখো চাকরিপ্রার্থীর বিশ্বাসে আঘাত করেছে।আজ যারা বাদ পড়েছে,তাদের জায়গায় কাল অন্য কেউও হতে পারে।কারণ যেখানে নিয়মের চেয়ে অব্যবস্থাপনা বড় হয়ে যায়,
সেখানে মেধা নয়, অনিশ্চয়তাই রাজত্ব করে। আর জনগণের প্রশ্ন এখন আরও কঠিন যারা প্রিলিমিনারি নিল, লিখিত নিল, ভাইভা নিল, চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করলো,এত বড় ভুলের দায় কি শুধু প্রার্থীদের ? নাকি প্রকৃত অযোগ্যতার বিচার শুরু হওয়া উচিত সেই দায়িত্বশীলদের দিক থেকেই ? বাংলাদেশের তরুণ সমাজ চাকরি চায়, স্বচ্ছতা চায়, ন্যায়বিচার চায়।তারা কোনো করুণা চায় না।তাদের স্বপ্ন নিয়ে এমন ছেলেখেলা বন্ধ করতে হবে।দেশের সর্বোচ্চ চাকরির ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ধ্বংস করে দেওয়া যাতে দলীয়করণ সহজ হয় এমন আশঙ্কাও এখন প্রকাশ করছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিক।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অসঙ্গতি শুধু একটি ব্যাচ বা কয়েকজন প্রার্থীর ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পুরো রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তারা বলছেন, বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় যোগ্যতা যাচাই, তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি একজন প্রার্থী সত্যিই অযোগ্য হন, তবে সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম এলো কীভাবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা বাড়াবে।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, দেশের সর্বোচ্চ সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ভুল যাচাই নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রার্থীকে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে না হয়।

এ কে এম ফখরুল আলম(বাপ্পী চৌধুরী) 




















