ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশেষ অভিযানে কানাইঘাট পুলিশের সাফল্য: মানবপাচার ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মোংলায় এক দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আখতারুজ্জামান ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু টাইড’; কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের হারিয়ে চমক শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত, ৯৯ জন পেলেন আর্থিক সহায়তা পূর্বধলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে পদত্যাগের দাবি নাকচ বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের শার্শায় গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৪৮৬ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হাসিমুখে কথা বলাও একধরনের ইবাদত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে

হাসি কান্না মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মানুষ সুখে হাসে আর দু:খে কাঁদে। ইসলামে অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা এবং কথা বলা শুধু একটি ভদ্রতা নয়– বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে,

  

”প্রতিটি নেক আমলই সদকা, আর তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং কোনো ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি)”

হাসিমুখে কথা বলাকে সদকা বলা হয়েছে। সদকা মানে হলো দান। অর্থাৎ হাসিমুখে কথা বলা দ্বারা আমরা অন্যকে একটি দান করি, একটি সুন্দর অনুভূতি দান করি। এটি আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয় এবং সমাজকে আরও সুন্দর করে তোলে।
 
 
নবীজি (স.) সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার সাহাবিরা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এতো হাসতেন যে, তার দাঁত দেখা যেত।
 
রসুলুল্লাহ (স.) এর চেহারায় বেশিরভাগ সময়ই মুচকি হাসি লেগে থাকতো। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, 
  

”আমি আল্লাহর রসুল (স.) এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি ৩৬৪১)”

 

অন্যকে তুচ্ছ ভেবে গোমড়া মুখে কথা বলা, অহংকার করে গাল ফুলিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 
  

”তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে তোমার গাল ফুলিয়ো না এবং জমিনে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান ১৮)”

 

হাসিমুখে কথা বলা একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও একতা বৃদ্ধি করে। একটি হাসিখুশি সমাজ গঠনে হাসির ভূমিকা অপরিহার্য।
 
হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, 
  

”ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনো আল্লাহর রসুল (স.) আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন। (বুখারি ৩০৩৫)”

 
ইসলামে হাসির গুরুত্ব অপরিসীম। হাসিমুখে কথা বলা আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয়, সমাজকে সুন্দর করে তোলে এবং আমাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। মুসলমানদের উচিত হাসিমুখে থাকা এবং অন্যকেও হাসাতে উৎসাহিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কানাইঘাট পুলিশের সাফল্য: মানবপাচার ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

হাসিমুখে কথা বলাও একধরনের ইবাদত

আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

হাসি কান্না মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মানুষ সুখে হাসে আর দু:খে কাঁদে। ইসলামে অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা এবং কথা বলা শুধু একটি ভদ্রতা নয়– বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে,

  

”প্রতিটি নেক আমলই সদকা, আর তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং কোনো ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি)”

হাসিমুখে কথা বলাকে সদকা বলা হয়েছে। সদকা মানে হলো দান। অর্থাৎ হাসিমুখে কথা বলা দ্বারা আমরা অন্যকে একটি দান করি, একটি সুন্দর অনুভূতি দান করি। এটি আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয় এবং সমাজকে আরও সুন্দর করে তোলে।
 
 
নবীজি (স.) সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার সাহাবিরা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এতো হাসতেন যে, তার দাঁত দেখা যেত।
 
রসুলুল্লাহ (স.) এর চেহারায় বেশিরভাগ সময়ই মুচকি হাসি লেগে থাকতো। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, 
  

”আমি আল্লাহর রসুল (স.) এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি ৩৬৪১)”

 

অন্যকে তুচ্ছ ভেবে গোমড়া মুখে কথা বলা, অহংকার করে গাল ফুলিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 
  

”তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে তোমার গাল ফুলিয়ো না এবং জমিনে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান ১৮)”

 

হাসিমুখে কথা বলা একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও একতা বৃদ্ধি করে। একটি হাসিখুশি সমাজ গঠনে হাসির ভূমিকা অপরিহার্য।
 
হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, 
  

”ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনো আল্লাহর রসুল (স.) আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন। (বুখারি ৩০৩৫)”

 
ইসলামে হাসির গুরুত্ব অপরিসীম। হাসিমুখে কথা বলা আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয়, সমাজকে সুন্দর করে তোলে এবং আমাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। মুসলমানদের উচিত হাসিমুখে থাকা এবং অন্যকেও হাসাতে উৎসাহিত করা।