ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাইপলাইনে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি বলেছেন মির্জা ফখরুল পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন গৌরীপুরে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর গণপদত্যাগ রাঙামাটির জুরাছড়িতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হাসিমুখে কথা বলাও একধরনের ইবাদত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

হাসি কান্না মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মানুষ সুখে হাসে আর দু:খে কাঁদে। ইসলামে অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা এবং কথা বলা শুধু একটি ভদ্রতা নয়– বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে,

  

”প্রতিটি নেক আমলই সদকা, আর তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং কোনো ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি)”

হাসিমুখে কথা বলাকে সদকা বলা হয়েছে। সদকা মানে হলো দান। অর্থাৎ হাসিমুখে কথা বলা দ্বারা আমরা অন্যকে একটি দান করি, একটি সুন্দর অনুভূতি দান করি। এটি আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয় এবং সমাজকে আরও সুন্দর করে তোলে।
 
 
নবীজি (স.) সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার সাহাবিরা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এতো হাসতেন যে, তার দাঁত দেখা যেত।
 
রসুলুল্লাহ (স.) এর চেহারায় বেশিরভাগ সময়ই মুচকি হাসি লেগে থাকতো। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, 
  

”আমি আল্লাহর রসুল (স.) এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি ৩৬৪১)”

 

অন্যকে তুচ্ছ ভেবে গোমড়া মুখে কথা বলা, অহংকার করে গাল ফুলিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 
  

”তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে তোমার গাল ফুলিয়ো না এবং জমিনে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান ১৮)”

 

হাসিমুখে কথা বলা একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও একতা বৃদ্ধি করে। একটি হাসিখুশি সমাজ গঠনে হাসির ভূমিকা অপরিহার্য।
 
হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, 
  

”ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনো আল্লাহর রসুল (স.) আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন। (বুখারি ৩০৩৫)”

 
ইসলামে হাসির গুরুত্ব অপরিসীম। হাসিমুখে কথা বলা আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয়, সমাজকে সুন্দর করে তোলে এবং আমাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। মুসলমানদের উচিত হাসিমুখে থাকা এবং অন্যকেও হাসাতে উৎসাহিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান

হাসিমুখে কথা বলাও একধরনের ইবাদত

আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

হাসি কান্না মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মানুষ সুখে হাসে আর দু:খে কাঁদে। ইসলামে অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা এবং কথা বলা শুধু একটি ভদ্রতা নয়– বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে,

  

”প্রতিটি নেক আমলই সদকা, আর তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং কোনো ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি)”

হাসিমুখে কথা বলাকে সদকা বলা হয়েছে। সদকা মানে হলো দান। অর্থাৎ হাসিমুখে কথা বলা দ্বারা আমরা অন্যকে একটি দান করি, একটি সুন্দর অনুভূতি দান করি। এটি আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয় এবং সমাজকে আরও সুন্দর করে তোলে।
 
 
নবীজি (স.) সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার সাহাবিরা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এতো হাসতেন যে, তার দাঁত দেখা যেত।
 
রসুলুল্লাহ (স.) এর চেহারায় বেশিরভাগ সময়ই মুচকি হাসি লেগে থাকতো। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, 
  

”আমি আল্লাহর রসুল (স.) এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি ৩৬৪১)”

 

অন্যকে তুচ্ছ ভেবে গোমড়া মুখে কথা বলা, অহংকার করে গাল ফুলিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 
  

”তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে তোমার গাল ফুলিয়ো না এবং জমিনে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান ১৮)”

 

হাসিমুখে কথা বলা একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও একতা বৃদ্ধি করে। একটি হাসিখুশি সমাজ গঠনে হাসির ভূমিকা অপরিহার্য।
 
হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, 
  

”ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনো আল্লাহর রসুল (স.) আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন। (বুখারি ৩০৩৫)”

 
ইসলামে হাসির গুরুত্ব অপরিসীম। হাসিমুখে কথা বলা আমাদের আত্মাকে শান্তি দেয়, সমাজকে সুন্দর করে তোলে এবং আমাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। মুসলমানদের উচিত হাসিমুখে থাকা এবং অন্যকেও হাসাতে উৎসাহিত করা।