ময়মনসিংহ , শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

পারিবারিক কলহের জেরে পাবনার চাটমোহরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি ও সৎ ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বউ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ শাপলা খাতুন (৩০) ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসি মনজিল হোসেনের স্ত্রী। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।অভিযুক্তরা হলেন, নিহতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন (৬৫) ও সৎ ছেলে শিপন হোসেন (২০)।

 
মুলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে কুযাবাসী গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শাপলাকে বিয়ে করেন মনজিল। তার আগে আরো তিনটি স্ত্রী ছিল। শাপলা ছিল চতুর্থ স্ত্রী ৷ মনজিল সর্বশেষ ১০ মাস আগে বাড়ি আসছিল। স্বামী মনজিল সৌদি প্রবাসী হলেও স্ত্রী শাপলাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতেন না। বিয়ের পর তাকে মেনে নিতে পারেননি প্রথম স্ত্রীর ছেলে শিপন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় ৷ তিন মাস আগে শাপলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সৎ ছেলে শিপন ও তার দাদি মনোয়ারা খাতুন।
 
কয়েকদিন আগে স্থানীয়রা মিলে শাপলাকে তার স্বামীর বাড়িতে তুলে দেন। তখনই তাকে মেনে নেবে না, মেরে ফেলার হুমকি দেন সৎ ছেলে শিপন। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ বাড়িতে দেখতে পায় এলাকাবাসী।
 এ সময় সৎ ছেলে শিপন ও তার দাদি মনোয়ারা খাতুন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত শাপলার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার চালায় তারা।
 
একপর্যায়ে সৎ ছেলে ও তার দাদি পালানোর সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও তাদের দুইজনকে আটক করে।
 
নিহতের স্বজন নাজমা খাতুন বলেন, মেয়েটা ৯ মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিল। কয়েকদিন আগে ডাক্তার দেখাইছে, আলট্রসনোগ্রাম করছে ৷ ডাক্তার বলছে আর ৮/১০ দিন পর ডেলিভারি হবে। কিন্তু তার আগেই মেয়েটাকে ওরা এভাবে শেষ করে দিলো। আমরা ওদের কঠিন বিচার চাই।
 
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক দুইজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:২১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

পারিবারিক কলহের জেরে পাবনার চাটমোহরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি ও সৎ ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বউ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ শাপলা খাতুন (৩০) ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসি মনজিল হোসেনের স্ত্রী। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।অভিযুক্তরা হলেন, নিহতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন (৬৫) ও সৎ ছেলে শিপন হোসেন (২০)।

 
মুলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে কুযাবাসী গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শাপলাকে বিয়ে করেন মনজিল। তার আগে আরো তিনটি স্ত্রী ছিল। শাপলা ছিল চতুর্থ স্ত্রী ৷ মনজিল সর্বশেষ ১০ মাস আগে বাড়ি আসছিল। স্বামী মনজিল সৌদি প্রবাসী হলেও স্ত্রী শাপলাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতেন না। বিয়ের পর তাকে মেনে নিতে পারেননি প্রথম স্ত্রীর ছেলে শিপন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় ৷ তিন মাস আগে শাপলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সৎ ছেলে শিপন ও তার দাদি মনোয়ারা খাতুন।
 
কয়েকদিন আগে স্থানীয়রা মিলে শাপলাকে তার স্বামীর বাড়িতে তুলে দেন। তখনই তাকে মেনে নেবে না, মেরে ফেলার হুমকি দেন সৎ ছেলে শিপন। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ বাড়িতে দেখতে পায় এলাকাবাসী।
 এ সময় সৎ ছেলে শিপন ও তার দাদি মনোয়ারা খাতুন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত শাপলার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার চালায় তারা।
 
একপর্যায়ে সৎ ছেলে ও তার দাদি পালানোর সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও তাদের দুইজনকে আটক করে।
 
নিহতের স্বজন নাজমা খাতুন বলেন, মেয়েটা ৯ মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিল। কয়েকদিন আগে ডাক্তার দেখাইছে, আলট্রসনোগ্রাম করছে ৷ ডাক্তার বলছে আর ৮/১০ দিন পর ডেলিভারি হবে। কিন্তু তার আগেই মেয়েটাকে ওরা এভাবে শেষ করে দিলো। আমরা ওদের কঠিন বিচার চাই।
 
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক দুইজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।