ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কৈলাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে সরকার বললেন চিফ হুইপ ডিজিটাল ‘নকল’কে প্রতিহত করতে হবে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবে আদালত জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা আদ-দ্বীন হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের স্মারকলিপি বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশি সতর্কতা: যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারি ​ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস: দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সতর্কতা ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৈলাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।