ময়মনসিংহ , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
“হানিয়া আমিরের সাফ কথা: আত্মবিশ্বাসী নারীদের টেনে নিচে নামাতে নারীরাও কম যান না” নতুন বন্দোবস্ত: শ্রমিকের পাশে থাকার অঙ্গীকার নাহিদের ​পিএসএলে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা: গ্যালারি মাতালেন লাল-সবুজ সমর্থকরা ভান্সকে ট্রাম্পের শুভকামনা: ‘বিকল্প কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই’ ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানে ঐতিহাসিক বৈঠক: জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদল অনুশীলনে মেসির বুলেট গতির শট, ভাঙল ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরা! লেবাননে ইসরায়েলি বর্বরতা: বাংলাদেশের কঠোর প্রতিবাদ আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল: ৩-০ গোলের বড় জয় ইরানে অত্যাধুনিক অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্য সৎ থাকলে দেশ ছাড়তে হয় না বললেন অনন্ত জলিল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“হানিয়া আমিরের সাফ কথা: আত্মবিশ্বাসী নারীদের টেনে নিচে নামাতে নারীরাও কম যান না”

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।