ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা বলেছেন রাশেদ খাঁন ১১ দলের লংমার্চে যমুনা সেতুতে কিছু গাড়ির টোল দেওয়া হয়নি বললেন রিজভী ময়মনসিংহে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি’তে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের অংশগ্রহণ ব্যয় সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা দুই-একটা ককটেল ফাটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা মাদকসহ আটক: ঠাকুরগাঁওয়ে এক ব্যক্তির ৩ মাসের কারাদণ্ড বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না বললেন তানজিন তিশা সহজ ধাপে অনলাইনে নবম পে স্কেলের বেতন স্কেল নির্ধারণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিউ জার্সির ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট: নতুন জরিপে রিপাবলিকান টম কিয়ানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন ডেমোক্র্যাট বেনেট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: আবারও সহ-সভাপতি পদে সেলিম-আলী পরিষদের মহিউদ্দিন দেওয়ানের পক্ষে সহযোগিতার আহ্বান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত প্রসঙ্গে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলে সেটি সংসদের ক্ষমতা খর্ব করবে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

গত বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানো নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

শুনানিতে শরীফ ভূঁইয়া বলেন, হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত ১২ জন বিচারপতি এ মামলাটি শুনেছেন। তাদের মধ্যে আটজনই তা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) রাখার পক্ষে মত দেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ চারজন তা বাতিল করতে বলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের প্রথম দিনের শুনানি হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগের ২০১১ সালের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে প্রথম আবেদন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।

অন্যরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

একই বছরের ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এর এক সপ্তাহ পর ২৩ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়। আদালত এ মামলায় আটজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ করে তাদের মতামত শোনেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পক্ষে মত দেন।

তারা হলেন ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। অপর অ্যামিকাস কিউরি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মতো দেন।

ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে তাদের প্রস্তাব আদালতে তুলে ধরেন। এ ছাড়া তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে মত দেন।

২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়। এরপর টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দলীয় সরকারের (আওয়ামী লীগের) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা বলেছেন রাশেদ খাঁন

প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত প্রসঙ্গে

আপডেট সময় ০৯:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলে সেটি সংসদের ক্ষমতা খর্ব করবে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

গত বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানো নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

শুনানিতে শরীফ ভূঁইয়া বলেন, হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত ১২ জন বিচারপতি এ মামলাটি শুনেছেন। তাদের মধ্যে আটজনই তা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) রাখার পক্ষে মত দেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ চারজন তা বাতিল করতে বলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের প্রথম দিনের শুনানি হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগের ২০১১ সালের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে প্রথম আবেদন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।

অন্যরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

একই বছরের ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এর এক সপ্তাহ পর ২৩ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়। আদালত এ মামলায় আটজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ করে তাদের মতামত শোনেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পক্ষে মত দেন।

তারা হলেন ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। অপর অ্যামিকাস কিউরি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মতো দেন।

ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে তাদের প্রস্তাব আদালতে তুলে ধরেন। এ ছাড়া তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে মত দেন।

২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়। এরপর টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দলীয় সরকারের (আওয়ামী লীগের) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।