ময়মনসিংহ , বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছা থাকলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা গৌরীপুরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নির্বাচনের পরের দিনের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে: ছাত্রশিবির সভাপতি ঢাকা-৮ আসনকে মদিনার সমাজ বানাতে চাই বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যারা বিক্রি হচ্ছেন তাদের হিসাব ১২ তারিখের পর হবে বললেন বিএনপি প্রার্থী ফারুক আজ মধ্যরাত থেকে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ১৮ ঊর্ধ্ব সবাইকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেছেন নাহিদ ইসলাম ইউপি সদস্যের স্বামীকে গুলি করে হত্যা, আহত ১ নরসিংদীতে সোনার দাঁড়িপাল্লা উপহার দিলেন সমর্থক শিশির মনিরকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না জানিয়েছে ইসি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইমানদাররা ক্ষমতায় আসলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয় বললেন মামুনুল হক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ইমানদাররা রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ইমানদারদের হাতে ক্ষমতা গেলে নামাজ কায়েম হয়, যাকাত বাস্তবায়িত হয়—এগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন। আর যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী, তাদের মধ্যে সেকুলারিজম কাজ করে, যার অর্থ হলো—ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথকভাবে পরিচালনা করা।

গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে জেলা কওমি সংগঠনের আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা সেকুলারিজম গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কোনো মুসলমান যদি ঈমান ও ইসলাম হৃদয়ে ধারণ করে, তবে তার পক্ষে সেকুলারিজম ভিত্তিক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তার দাবি, ইসলাম যেভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলেছে, অন্য কোনো ধর্ম এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনা দেয় না। তাই কোনো মুসলমান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না; তাকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারেই রাষ্ট্র চালাতে হবে—এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম করা তার পক্ষে অসম্ভব।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা যদি ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান, তবে কোনো ইসলামী দলই আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। যারা না বুঝে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চায় তারা মূর্খ, আর যারা বুঝে শুনে বানাতে চায় তারা বেইমান ও কাফেরের দল। এরা মূর্খ এবং ভণ্ড।

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন, অথচ তার অনুসারীরাই এখন ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেশ চালাতে চান—যা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।

সরকার ও ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে নিকটতম প্রতিবেশী, আপনজন ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ৫ আগস্টের পরে দেখলাম তাই হয়েছে। স্বামীর কাছে স্ত্রী ঠিকই চল⁠ে গেছে। তাই আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার কাছেই নিরাপদ। এসব লজ্জাজনক।

তার অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েম করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ নিজেদের ‘তাদের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছেন’, যা আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ভারতীয় মুসলিমসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের শাসন ফিরে আসবে এবং কোরআনের শাসন কার্যকর হবে।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন—বৃটিশ হটাও আন্দোলনের অন্যতম নায়ক সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানী ( রহ.)-এর ছোট ছেলে আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী (দেওবন্দ, ভারত), জাফরাবাদ কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খাজা আহমদ উল্লাহ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা কবির আহমদ এবং চাঁদপুর জেলা কওমি সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবু সাঈদসহ আরও অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছা থাকলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা

ইমানদাররা ক্ষমতায় আসলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয় বললেন মামুনুল হক

আপডেট সময় ১১:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইমানদাররা রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ইমানদারদের হাতে ক্ষমতা গেলে নামাজ কায়েম হয়, যাকাত বাস্তবায়িত হয়—এগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন। আর যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী, তাদের মধ্যে সেকুলারিজম কাজ করে, যার অর্থ হলো—ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথকভাবে পরিচালনা করা।

গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে জেলা কওমি সংগঠনের আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা সেকুলারিজম গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কোনো মুসলমান যদি ঈমান ও ইসলাম হৃদয়ে ধারণ করে, তবে তার পক্ষে সেকুলারিজম ভিত্তিক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তার দাবি, ইসলাম যেভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলেছে, অন্য কোনো ধর্ম এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনা দেয় না। তাই কোনো মুসলমান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না; তাকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারেই রাষ্ট্র চালাতে হবে—এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম করা তার পক্ষে অসম্ভব।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা যদি ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান, তবে কোনো ইসলামী দলই আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। যারা না বুঝে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চায় তারা মূর্খ, আর যারা বুঝে শুনে বানাতে চায় তারা বেইমান ও কাফেরের দল। এরা মূর্খ এবং ভণ্ড।

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন, অথচ তার অনুসারীরাই এখন ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেশ চালাতে চান—যা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।

সরকার ও ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে নিকটতম প্রতিবেশী, আপনজন ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ৫ আগস্টের পরে দেখলাম তাই হয়েছে। স্বামীর কাছে স্ত্রী ঠিকই চল⁠ে গেছে। তাই আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার কাছেই নিরাপদ। এসব লজ্জাজনক।

তার অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েম করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ নিজেদের ‘তাদের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছেন’, যা আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ভারতীয় মুসলিমসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের শাসন ফিরে আসবে এবং কোরআনের শাসন কার্যকর হবে।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন—বৃটিশ হটাও আন্দোলনের অন্যতম নায়ক সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানী ( রহ.)-এর ছোট ছেলে আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী (দেওবন্দ, ভারত), জাফরাবাদ কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খাজা আহমদ উল্লাহ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা কবির আহমদ এবং চাঁদপুর জেলা কওমি সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবু সাঈদসহ আরও অনেকে।