ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাকসু জিএস আম্মারের আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল জানিয়েছে ছাত্রদল

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে কুচক্রী মহল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ও ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন এবং ডিনদের চেয়ারে দেখলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ‘বাকিটা বুঝিয়ে দেব’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া গত শুক্রবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরি করলে তাদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বক্তব্যকে হুমকিমূলক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হুমকিমূলক বক্তব্যে অছাত্রসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী। একজন ছাত্র বা ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল।

ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক নামধারী কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবাদ কায়েমের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত ব্যতিরেকে অহেতুক ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে চরমপন্থীদের কু–স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম যৌথভাবে বিবৃতিতে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি, অশালীন ও মারমুখী আচরণ জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অছাত্রসুলভ। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার ও হুমকির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন আওয়ামীপন্থি ডিনের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার সকালে কর্মসূচি পালন করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের সবাইকে কল করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের সবাইকে কল করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। সেই সঙ্গে ছয় ডিনের জন্য লিখে নিয়ে আসা পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার ক্লাস নিচ্ছেন জানতে পেরে তার বিভাগেও যান সালাউদ্দিন আম্মার। তবে সেখানে ওই শিক্ষককে পাননি তিনি। এরপর দুপুরে শিক্ষার্থীরা ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের তিনজন ডিনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর উপাচার্যসহ প্রশাসন ভবনের সব কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে পরে তালা খুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরও বাড়তে পারে ঈদের ছুটি

রাকসু জিএস আম্মারের আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল জানিয়েছে ছাত্রদল

আপডেট সময় ১১:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে কুচক্রী মহল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ও ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন এবং ডিনদের চেয়ারে দেখলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ‘বাকিটা বুঝিয়ে দেব’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া গত শুক্রবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরি করলে তাদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বক্তব্যকে হুমকিমূলক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হুমকিমূলক বক্তব্যে অছাত্রসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী। একজন ছাত্র বা ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল।

ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক নামধারী কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবাদ কায়েমের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত ব্যতিরেকে অহেতুক ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে চরমপন্থীদের কু–স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম যৌথভাবে বিবৃতিতে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি, অশালীন ও মারমুখী আচরণ জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অছাত্রসুলভ। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার ও হুমকির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন আওয়ামীপন্থি ডিনের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার সকালে কর্মসূচি পালন করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের সবাইকে কল করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের সবাইকে কল করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। সেই সঙ্গে ছয় ডিনের জন্য লিখে নিয়ে আসা পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার ক্লাস নিচ্ছেন জানতে পেরে তার বিভাগেও যান সালাউদ্দিন আম্মার। তবে সেখানে ওই শিক্ষককে পাননি তিনি। এরপর দুপুরে শিক্ষার্থীরা ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের তিনজন ডিনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর উপাচার্যসহ প্রশাসন ভবনের সব কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে পরে তালা খুলে দেওয়া হয়।