বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে নীরবে পাশে থাকা মানুষটি ছিলেন ফাতেমা বেগম। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাসভবন, কার্যালয়, রাজপথ, হাসপাতাল, বিদেশ সফর থেকে শুরু করে কারাগার- সব জায়গায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তিনি। চেয়ারপারসনের মৃত্যুর পর এবার সেই ফাতেমাকেই দেখা গেল তার নাতনি জাইমা রহমানের পাশে।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দাদির কবর জিয়ারত করতে গিয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে ছিলেন ফাতেমা। বহনকারী গাড়ি থেকে জাইমা রহমান নামার সময় তার ঠিক পেছনেই ফাতেমাকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
২০১০ সাল থেকে খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ফাতেমা বেগম। শুরুতে গৃহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও ধীরে ধীরে তিনি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। দলের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি তার গভীর আন্তরিকতা ও যত্ন ছিল সর্বজনবিদিত। সব সময় পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় বিষয় মনে করিয়ে দেওয়াই ছিল তার নিয়মিত কাজ।
আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ও খালেদা জিয়ার পাশে নীরব উপস্থিতি ছিল ফাতেমার। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে গুলশান কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার সময় কিংবা ২০১৫ সালে টানা ৯২ দিন কার্যালয়ে অবস্থানকাল, সব সময়ই তাকে পাশে পাওয়া গেছে।
স্বল্পভাষী ফাতেমার বয়স এখন প্রায় ৪০ বছর। তিনি এক সন্তানের জননী। আগে মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বসবাস করতেন। বিএনপির কার্যালয় সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে ‘ফিরোজা’য় তার কাজের সূচনা হয়।

ডিজিটাল ডেস্ক 




















