ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশেষ অভিযানে কানাইঘাট পুলিশের সাফল্য: মানবপাচার ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মোংলায় এক দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আখতারুজ্জামান ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু টাইড’; কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের হারিয়ে চমক শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত, ৯৯ জন পেলেন আর্থিক সহায়তা পূর্বধলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে পদত্যাগের দাবি নাকচ বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের শার্শায় গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৪৮৬ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৩ দিনের রিমান্ডে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

পুলিশ আসামির জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর-২৩, দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাইনুল ইসলাম খান পুলক আবেদনে উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় ৬১ নম্বর আসামি দীপঙ্কর তালুকদার (৭২) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার পিতা মৃত হেমন্ত প্রসাদ তালুকদার। তার বর্তমান ঠিকানা ধানমন্ডির সোবহানবাগ এলাকার নিউ বুরি প্লেসের নাভানা বিল্ডিংয়ের ৪/১/এ নম্বর ফ্ল্যাট।

পুলিশ জানায়, দীপঙ্কর তালুকদার বর্তমানে পল্টন থানার মামলা নং-২৫ (তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪), বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৬ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/২০১/৩৮৪/১১৪/১০৯/৩৪ ধারার মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আটক রয়েছেন। এর আগে তাকে এ মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন।

এজাহার অনুযায়ী, নিহত মো. মনির একাধিক গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় হাসপাতালের সংকট ও অতিরিক্ত চাপের কারণে পোস্টমর্টেম করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবার ঢাকায় দাফনের চেষ্টা করলে কবরস্থানের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম না থাকায় অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ ভোলা জেলার শম্ভুপুর খাসেরহাট গ্রামের আলতাফ আলী দফাদার বাড়িতে দাফন করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি আন্দোলন দমনে কঠোর নির্দেশনা দেন। সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, হাজী সেলিম, সোলায়মান সেলিমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে শাহবাগ, লালবাগ, বংশাল, কোতোয়ালীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এতে মো. মনিরসহ বহু মানুষ নিহত হন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দীপঙ্কর তালুকদারের সঙ্গে ঘটনার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার নেপথ্যে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়নের বিষয় উদ্ঘাটন এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কানাইঘাট পুলিশের সাফল্য: মানবপাচার ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

৩ দিনের রিমান্ডে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার

আপডেট সময় ০১:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

পুলিশ আসামির জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর-২৩, দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাইনুল ইসলাম খান পুলক আবেদনে উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় ৬১ নম্বর আসামি দীপঙ্কর তালুকদার (৭২) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার পিতা মৃত হেমন্ত প্রসাদ তালুকদার। তার বর্তমান ঠিকানা ধানমন্ডির সোবহানবাগ এলাকার নিউ বুরি প্লেসের নাভানা বিল্ডিংয়ের ৪/১/এ নম্বর ফ্ল্যাট।

পুলিশ জানায়, দীপঙ্কর তালুকদার বর্তমানে পল্টন থানার মামলা নং-২৫ (তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪), বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৬ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/২০১/৩৮৪/১১৪/১০৯/৩৪ ধারার মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আটক রয়েছেন। এর আগে তাকে এ মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন।

এজাহার অনুযায়ী, নিহত মো. মনির একাধিক গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় হাসপাতালের সংকট ও অতিরিক্ত চাপের কারণে পোস্টমর্টেম করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবার ঢাকায় দাফনের চেষ্টা করলে কবরস্থানের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম না থাকায় অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ ভোলা জেলার শম্ভুপুর খাসেরহাট গ্রামের আলতাফ আলী দফাদার বাড়িতে দাফন করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি আন্দোলন দমনে কঠোর নির্দেশনা দেন। সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, হাজী সেলিম, সোলায়মান সেলিমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে শাহবাগ, লালবাগ, বংশাল, কোতোয়ালীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এতে মো. মনিরসহ বহু মানুষ নিহত হন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দীপঙ্কর তালুকদারের সঙ্গে ঘটনার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার নেপথ্যে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়নের বিষয় উদ্ঘাটন এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।