দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
তেহরানে ব্যবসায়ীদের মূল্যস্ফীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। একপর্যায়ে তা শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। এর জবাবে সরকার কঠোর দমন অভিযান শুরু করে। গার্ডিয়ান স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০০৯ ও ২০১৯ সালেও ইরান বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বড় ধরনের গণঅস্থিরতা দমন করেছিল।
আরাঘচি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস করে তুলে সামরিক হস্তক্ষেপের ‘অজুহাত’ তৈরি করছে। ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও এনেছে।
ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব নিয়ে নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের গবেষণা পরিচালক ইসিক মাটার আল জাজিরাকে বলেন, ইরান সরকার তাদের ‘ডিজিটাল কিল সুইচ’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। এতে ২০১৯ সালের তুলনায় আরও দ্রুত ও কঠোরভাবে দমন অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্ল্যাকআউটের ফলে স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আড়াল থেকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৯০ জনই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষাপটে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক বিকল্প বিবেচনার কথাও বলেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরান সরকার জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















