ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

জামিন হলো না স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

কারাফটকে মৃত স্ত্রী-সন্তানকে শেষ বিদায় জানানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের উচ্চ আদালত থেকে জামিন হয়েছে। তবে সে জামিনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই পরিবারে। তারা বলছেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?’

জামিনের পর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তান বাড়ি ফিরে কি দেখবে সেই চিন্তায় অস্থির মা দেলোয়ারা একরাম। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কি হবে।

‘এখন জামিন হওয়া, আর না হওয়া সমান কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও জামিন হয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কি হবে?’

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, ‘এই জামিন দিয়ে কি হবে! এদেশে সব নাটকীয়তা।’

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিনের আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোছল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামিন হলো না স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?

আপডেট সময় ০৯:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

কারাফটকে মৃত স্ত্রী-সন্তানকে শেষ বিদায় জানানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের উচ্চ আদালত থেকে জামিন হয়েছে। তবে সে জামিনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই পরিবারে। তারা বলছেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?’

জামিনের পর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তান বাড়ি ফিরে কি দেখবে সেই চিন্তায় অস্থির মা দেলোয়ারা একরাম। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কি হবে।

‘এখন জামিন হওয়া, আর না হওয়া সমান কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও জামিন হয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কি হবে?’

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, ‘এই জামিন দিয়ে কি হবে! এদেশে সব নাটকীয়তা।’

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিনের আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোছল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।