ময়মনসিংহ , রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইতর শ্রেণির লোক এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে বলেছেন জামায়াত আমির জোটের পরিণতি কি হবে, তা নির্বাচনের পর দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না, দেশের মানুষ জেগে উঠেছে বলেছেন মির্জা ফখরুল ভোট সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পেলে পরিণতি খুব খারাপ হবে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ঢাকা উত্তরের প্রশাসক এজাজের চাকার ঘূর্ণনেয়ন অপেক্ষায় ঘোরে শহর ময়মনসিংহের যানজটের নীরব আর্তনাদ জামায়াত আমির শেরপুরে সংঘর্ষে নিহত নেতার কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কেন ১২ ঘণ্টা পরে জিডি করা হলো বললেন মাহদী আমিন নির্বাচিত হলে ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব বলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের আমির নারীদের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

চাকার ঘূর্ণনেয়ন অপেক্ষায় ঘোরে শহর ময়মনসিংহের যানজটের নীরব আর্তনাদ

ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক প্রাচীন জনপদ ময়মনসিংহ। শিক্ষা, সংস্কৃতি আরঐতিহ্যেরএই শহরটি এখন এক ভিন্ন পরিচয়েপরিচিত হয়েছে ‘যানজটের শহর’ হিসেবে।ময়মনসিংহের টাউনহল মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, নতুনবাজার, চরপাড়া, কাচারিঘাট, ব্রিজমোড় ও মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন সড়ক সমূহ এই এলাকা গুলো এখন যানজটের প্রতীকী ভূগোল।কয়েক মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় মানুষকে।ফলে নগর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বিনষ্ট হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।যানজট এখানে নিছক যানবাহনের জটলা নয়; এক গভীর সামাজিক সংকট।অফিসগামী মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, আর রোগীবাহী যানবাহন পড়ছে চরম অনিশ্চয়তায়। অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক এবং ব্যাটারি চালিত রিকশা শহরের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন এখন রাস্তায়।এর সাথে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব।রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে রাখা হকারদের কারণে মূল রাস্তা দিনে দিনে সরু হয়ে আসছে।

রেলক্রসিং ও যানজটের ত্রয়ী সংঘাত ,শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রেললাইনটি যেন যানজটের আর ও গভীর করে দেয়।প্রতিদিন যখন রেলক্রসিংয়ের গেট পড়ে, তখন শহরের দুইপাশের জীবন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।গেট খোলার পর যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তার রেশ কাটাতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়মনসিংহের যানজট মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের সম্মিলিত ফল। শহরের সড়ক অবকাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ও যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।এর পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য। প্রধান সড়কের নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পার্ক করা রিকশা, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন সড়কের কার্যকর প্রস্থ সংকুচিত করে ফেলছে। শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার অভাব সুস্পষ্ট । কোথাও ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তি গত সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা  কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন বাজার এলাকার এক পথচারী বলেন, এখানে নিয়মের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বেশি কার্যকর। সবাই নিজের মতো করে চলতে চায়।”ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান ,জনবল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ভবিষ্যতে ট্রাফিক সিগন্যাল ও পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।”পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে এক মুখী সড়ক ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ও ফুটপাত দখল মুক্তকরণ।

ময়মনসিংহ শহরটি আমাদের গর্বের। কিন্তু এই যানজট শহরটির প্রাণশক্তি শুষে নিচ্ছে। আমরা চাই এমন একটি গতিশীল শহর, যেখানে সময় মানেই অগ্রগতি। আমরা এমন এক ময়মনসিংহ চাই না যেখানে চাকা কেবল ক্লান্তি বয়ে আনবে।আমরা চাই এমন এক জনপদ, যেখানে সময়ের মূল্য থাকবে অটুট। প্রয়োজন যুগোপযোগী ট্রাফিক প্রকৌশল এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে উড়াল সড়ক কিংবা বিকল্প সংযোগ সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা যেখানে ফুটপাত থাকবে পথচারীদের জন্য এবং রাস্তা থাকবে সচল যানবাহনের জন্য। যেখানে চাকা ঘুরবে গন্তব্যের টানে, অনিয়ত অপেক্ষার প্রহরে নয়।কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর নাগরিকদের সচেতনতাই পারে এই নীরব আর্তনাদ থামিয়ে শহরটিকে আবার গতিশীল করতে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতর শ্রেণির লোক এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে বলেছেন জামায়াত আমির

চাকার ঘূর্ণনেয়ন অপেক্ষায় ঘোরে শহর ময়মনসিংহের যানজটের নীরব আর্তনাদ

আপডেট সময় ০২:০০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক প্রাচীন জনপদ ময়মনসিংহ। শিক্ষা, সংস্কৃতি আরঐতিহ্যেরএই শহরটি এখন এক ভিন্ন পরিচয়েপরিচিত হয়েছে ‘যানজটের শহর’ হিসেবে।ময়মনসিংহের টাউনহল মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, নতুনবাজার, চরপাড়া, কাচারিঘাট, ব্রিজমোড় ও মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন সড়ক সমূহ এই এলাকা গুলো এখন যানজটের প্রতীকী ভূগোল।কয়েক মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় মানুষকে।ফলে নগর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বিনষ্ট হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।যানজট এখানে নিছক যানবাহনের জটলা নয়; এক গভীর সামাজিক সংকট।অফিসগামী মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, আর রোগীবাহী যানবাহন পড়ছে চরম অনিশ্চয়তায়। অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক এবং ব্যাটারি চালিত রিকশা শহরের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন এখন রাস্তায়।এর সাথে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব।রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে রাখা হকারদের কারণে মূল রাস্তা দিনে দিনে সরু হয়ে আসছে।

রেলক্রসিং ও যানজটের ত্রয়ী সংঘাত ,শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রেললাইনটি যেন যানজটের আর ও গভীর করে দেয়।প্রতিদিন যখন রেলক্রসিংয়ের গেট পড়ে, তখন শহরের দুইপাশের জীবন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।গেট খোলার পর যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তার রেশ কাটাতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়মনসিংহের যানজট মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের সম্মিলিত ফল। শহরের সড়ক অবকাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ও যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।এর পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য। প্রধান সড়কের নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পার্ক করা রিকশা, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন সড়কের কার্যকর প্রস্থ সংকুচিত করে ফেলছে। শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার অভাব সুস্পষ্ট । কোথাও ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তি গত সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা  কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন বাজার এলাকার এক পথচারী বলেন, এখানে নিয়মের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বেশি কার্যকর। সবাই নিজের মতো করে চলতে চায়।”ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান ,জনবল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ভবিষ্যতে ট্রাফিক সিগন্যাল ও পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।”পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে এক মুখী সড়ক ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ও ফুটপাত দখল মুক্তকরণ।

ময়মনসিংহ শহরটি আমাদের গর্বের। কিন্তু এই যানজট শহরটির প্রাণশক্তি শুষে নিচ্ছে। আমরা চাই এমন একটি গতিশীল শহর, যেখানে সময় মানেই অগ্রগতি। আমরা এমন এক ময়মনসিংহ চাই না যেখানে চাকা কেবল ক্লান্তি বয়ে আনবে।আমরা চাই এমন এক জনপদ, যেখানে সময়ের মূল্য থাকবে অটুট। প্রয়োজন যুগোপযোগী ট্রাফিক প্রকৌশল এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে উড়াল সড়ক কিংবা বিকল্প সংযোগ সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা যেখানে ফুটপাত থাকবে পথচারীদের জন্য এবং রাস্তা থাকবে সচল যানবাহনের জন্য। যেখানে চাকা ঘুরবে গন্তব্যের টানে, অনিয়ত অপেক্ষার প্রহরে নয়।কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর নাগরিকদের সচেতনতাই পারে এই নীরব আর্তনাদ থামিয়ে শহরটিকে আবার গতিশীল করতে।