শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। যান্ত্রিক মেশিনের ভীড়ে টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি। এক সময় ঢেঁকি দিয়ে ধানের চিড়া, চাল, ডাল, গম, মরিচসহ আরো কিছু গুড়া করা হতো।
এখন বিদ্যুত চালিত যান্ত্রিক মেশিনের প্রসারের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঢেঁকি। বর্তমানে গ্রাম গন্জে আগের মত ঢেঁকি দেখা যায়না। শোনা যায়না ঢেঁকির ঢক ঢক শব্দ। আগে গ্রামের বধূরা ঢেঁকিতে চাল ভানিয়ে নানা সুস্বাদু পিঠা তৈরী করতো। গাইতো গিত, কিচ্ছা আর করতো খোশ গল্প। সেই ঢেঁকি আজ গল্প আর কল্পনা মাত্র। নতুন প্রজন্মরা ঢেঁকি চিনেনা, জানেনা তার অতিত।
বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে যন্ত্রের মেশিনে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, ডাল, চাল সহ বিভিন্ন কিছু ভানা হয়। তাই ঢেঁকির কদর নাই, পাওয়াও দুস্কর। নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরে হাতে গুনা কিছু বাড়ীতে এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির প্রচলন আছে।
উপজেলার বালুঘাটা গ্রামের হাশেম বাচ্চু, নন্নীপুর্ব পাড়ার রওশনারা বেগম বলেন- ঢেঁকি দিয়ে চাল গুড়ার পিঠার স্বাদই আলাদা। মেশিনের চাল গুড়া অনেক সময় তিতা লাগে, গন্ধ করে খেতে সমস্যা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে নানা আবিষ্কার ও কলকারখানার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। ঢেঁকির ঐতিহ্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

খন্দকার আব্দুল আলীম 




















