ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার রেকর্ড টোল আদায়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামায় পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার এই সেতু দিয়ে মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর ফলে দুই প্রান্তের টোল প্লাজা থেকে মোট ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন পারাপার ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই প্রান্তেই বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।গত এক দিনে সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন পার হয়েছে। এই প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৩৯০টি গাড়ি পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৫টি যানবাহন, যেখান থেকে টোল সংগৃহীত হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন থাকায় এবং টোল প্লাজায় অতিরিক্ত বুথ চালু রাখায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না

মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তেই ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকলেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। দ্রুত টোল আদায়ের লক্ষ্যে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিই সক্রিয় রাখা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, সকাল থেকেই কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই সব ধরনের গাড়ি পার হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করেছেন যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এটিই অন্যতম সর্বোচ্চ টোল আদায়ের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে যানবাহনের এই চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ করতে ফেরিঘাটের ওপর চাপ কমিয়ে পদ্মা সেতু এখন দক্ষিণবঙ্গের যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হয়েছে। টোল আদায়ের এই বিশাল অংক দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সফলতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার রেকর্ড টোল আদায়

আপডেট সময় ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামায় পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার এই সেতু দিয়ে মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর ফলে দুই প্রান্তের টোল প্লাজা থেকে মোট ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন পারাপার ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই প্রান্তেই বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।গত এক দিনে সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন পার হয়েছে। এই প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৩৯০টি গাড়ি পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৫টি যানবাহন, যেখান থেকে টোল সংগৃহীত হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন থাকায় এবং টোল প্লাজায় অতিরিক্ত বুথ চালু রাখায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না

মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তেই ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকলেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। দ্রুত টোল আদায়ের লক্ষ্যে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিই সক্রিয় রাখা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, সকাল থেকেই কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই সব ধরনের গাড়ি পার হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করেছেন যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এটিই অন্যতম সর্বোচ্চ টোল আদায়ের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে যানবাহনের এই চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ করতে ফেরিঘাটের ওপর চাপ কমিয়ে পদ্মা সেতু এখন দক্ষিণবঙ্গের যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হয়েছে। টোল আদায়ের এই বিশাল অংক দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সফলতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।