ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গৌরীপুরের পুমবাইল ফজলুল উলুম ফাজিল মাদরাসার ঈদপূণর্মিলনী সুনামগঞ্জের ১০ জন খাবারের অভাবেই মারা গেছেন , লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে সেনাবাহিনী প্রধান সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ১৮ কেজি সোনা উদ্ধার বিমানের টয়লেট থেকে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘তেল নেই’ ব্যানার টাঙানো পাম্পে মিললো ১২ হাজার লিটার জ্বালানি নড়াইলে তেল না পেয়ে ট্রাকচাপায় পাম্প ম্যানেজারকে হত্যার অভিযোগ বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলল , মানতে হবে নতুন নির্দেশনা আজ সংসদের অধিবেশন বসছে ঈদের ছুটি শেষে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সুনামগঞ্জের ১০ জন খাবারের অভাবেই মারা গেছেন , লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভয়াবহ এই যাত্রায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর পান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরীপুরের পুমবাইল ফজলুল উলুম ফাজিল মাদরাসার ঈদপূণর্মিলনী

সুনামগঞ্জের ১০ জন খাবারের অভাবেই মারা গেছেন , লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে

আপডেট সময় ০১:১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভয়াবহ এই যাত্রায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর পান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।