নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বসতবাড়ির জমি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তার সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিকার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী তিনটি পরিবার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকায় বিবাদী বিশ্বজিত প্রসাদ (প্রোপাইটর, মেসার্স প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ) এবং তার সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়া রাস্তা নির্মাণের কাজ চলাকালে বাদীদের বসতবাড়ির জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জন্য নির্ধারিত স্থান (হালট বা গোপাট) বাদীদের জমির পাশেই রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মাত্র ২৭ শতক জমির ওপর তিনটি পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। সেখানে তিন ভাই, তাদের মা ও এক বোনসহ পরিবারগুলোর বসতভিটা রয়েছে। সেই বসতভিটার জমির ওপর দিয়েই পাকা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের ভয় দেখানোয় তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ফলে সম্পত্তি রক্ষায় নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তার প্রাক্কলন করা রহস্যজনক। উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জবরদখল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের পাকাকরণ কাজ বর্তমানে চলমান। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। কাজটি করছে ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’। স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ তদারকি করছেন লিটন মিয়া। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ছিল। তিনি প্রভাব খাটিয়ে তাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন এবং বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা রেখে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের জমির সীমানায় বাঁশের বেড়া দিয়ে রেখেছেন। তাদের দাবি, লিটন মিয়া বহিরাগত লোক এনে জোরপূর্বক মাটি কাটার চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবেশী ফারুক মিয়া বলেন, “শুধু মুমরুজ আলী, মজিবুরের পরিবার নয়, আরও অনেকের ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে এলজিইডি। মুমরুজ আলী প্রতিবাদ করেছেন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হালটের জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে কোনো সমস্যা থাকবে না।”
ভুক্তভোগী মুমরুজ আলী বলেন, “আমরা রাস্তার বিরোধী নই। আগেও আমাদের জায়গার ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করত। তবে স্থায়ী পাকা রাস্তা হালটের জায়গা দিয়েই নির্মাণ করা হোক। আমাদের রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়া বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। এলজিইডির প্রাক্কলন অনুযায়ী যেখানে আগে থেকেই রাস্তা ছিল, সেখান দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত। ব্যক্তিগত জমির বিষয়টি থাকলে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে এলজিইডির পক্ষে মাটি ভরাট করে বা নতুন ভাবে রাস্তা নির্মানের সুযোগ নেই।
এই বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ মো. মাসুম মোস্তফা বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কারও প্রতি কোন অবিচার না হয় এবং আইনের কোন লঙ্গন না হয়।

হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) 



















