ময়মনসিংহ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের অর্ডার ধরতে বড় উদ্যোগ: গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘গার্মেন্টস জোন’ ঢাকার বায়ু এখন ‘অস্বাস্থ্যকর’, নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের গণপিটুনির শিকার আসল ভ্যাট কর্মকর্তা: চোর সন্দেহে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন ময়মনসিংহ জেলা পর্যায়ে মার্শাল আর্টে তাইকোয়ানডো, জুডো, উশু, কারাতে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গণপাঠাগারের উদ্যোগে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গড়তে পূর্বধলায় সাংবাদিকদের সাথে ওসির মতবিনিময় কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা জোরদার ইতিহাসের পাতায় সূর্যবংশী: ছক্কা হাঁকিয়ে অনন্য সেঞ্চুরি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করবে রাশিয়া জানিয়েছেন পুতিন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়: আজ বিশ্ব মা দিবস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে ভাগ: কেন তীব্র হচ্ছে সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব?

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যখন গত সপ্তাহে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছিল। আর ওপেক ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে আরব আমিরাতের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। যদিও পারস্য উপসাগরের শক্তিধর এই দুই দেশ একসময় ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল।

গত শুক্রবার (৮ মে) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বর্তমানে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত প্রায় সব ক্ষেত্রেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার-সবখানেই তাদের রেষারেষি চলছে।

ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া মূলত দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতি নেতাদের মধ্যে এই মতপার্থক্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। এক দশক আগে সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো। দুজনেই ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং আরব বসন্ত পরবর্তী সময়ে নিজেদের শাসনব্যবস্থার ওপর আসা হুমকি মোকাবিলায় এবং মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন রূপ দিতে তারা একযোগে কাজ করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে আরব আমিরাত। ইরান যখন আমিরাতে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, তখন ইসরায়েল তাদের রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে।

একইসঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন ডলার সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে আমিরাত।

আয়তনে ছোট হলেও আমিরাত পশ্চিমের বিভিন্ন কৌশলগত দেশে স্থানীয় অংশীদার খুঁজে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায়। এতে সৌদি আরব বেশ বিরক্ত। রিয়াদ চায় না কোনো প্রতিবেশী দেশ তাদের সীমানার বাইরে গিয়ে এভাবে প্রভাব খাটাক।

সুদানের গৃহযুদ্ধে এই দুই প্রতিবেশী দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। দেশ দুটির সম্পর্কের কতটা অবনতি হয়েছে, তা প্রথম জানায় মিডল ইস্ট আই। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারামিলিটারি বাহিনী আরএসএফ-কে সমর্থন দেওয়ায় আমিরাতকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তদবির করেছে সৌদি আরব।

ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর ওপর হামলা চালায় সৌদি আরব। ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে আমিরাতের প্রভাব ঠেকানোর লড়াইয়ে রিয়াদ এমনকি ওমানকেও পাশে নিয়েছে।

জানা গেছে, এই টানাপোড়েন এমনকি হোয়াইট হাউস পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতি নেতার সঙ্গে এক ফোনালাপে জানান যে, সুদানের আধাসামরিক বাহিনীকে সমর্থনের অভিযোগে সৌদি যুবরাজ তাকে আমিরাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা জনসমক্ষে চলে আসে, যা কয়েক দশকের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের উষ্ণতাকে মুছে দেয়।

তবে এতকিছুর পরেও কোনো দেশই সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার ইঙ্গিত দেয়নি। দুই দেশের কর্মকর্তারাই এই সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, বড় কোনো সংকটের সময় তারা সবসময় একজোট হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার ইরান কর্তৃক আমিরাতের ওপর নতুন করে হামলার পর- সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাৎক্ষণিকভাবে শেখ মোহাম্মদকে ফোন করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে আমিরাতের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও দুই নেতার মধ্যে বিদ্যমান মৌলিক উত্তেজনা এবং তিক্ততাকে মুছে দিতে পারছে না। উপসাগরীয় এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার এই শীতল সম্পর্ক আগামী কয়েক বছর এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের অর্ডার ধরতে বড় উদ্যোগ: গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘গার্মেন্টস জোন’

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে ভাগ: কেন তীব্র হচ্ছে সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব?

আপডেট সময় ১০:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যখন গত সপ্তাহে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছিল। আর ওপেক ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে আরব আমিরাতের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। যদিও পারস্য উপসাগরের শক্তিধর এই দুই দেশ একসময় ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল।

গত শুক্রবার (৮ মে) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বর্তমানে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত প্রায় সব ক্ষেত্রেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার-সবখানেই তাদের রেষারেষি চলছে।

ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া মূলত দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতি নেতাদের মধ্যে এই মতপার্থক্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। এক দশক আগে সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো। দুজনেই ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং আরব বসন্ত পরবর্তী সময়ে নিজেদের শাসনব্যবস্থার ওপর আসা হুমকি মোকাবিলায় এবং মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন রূপ দিতে তারা একযোগে কাজ করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে আরব আমিরাত। ইরান যখন আমিরাতে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, তখন ইসরায়েল তাদের রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে।

একইসঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন ডলার সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে আমিরাত।

আয়তনে ছোট হলেও আমিরাত পশ্চিমের বিভিন্ন কৌশলগত দেশে স্থানীয় অংশীদার খুঁজে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায়। এতে সৌদি আরব বেশ বিরক্ত। রিয়াদ চায় না কোনো প্রতিবেশী দেশ তাদের সীমানার বাইরে গিয়ে এভাবে প্রভাব খাটাক।

সুদানের গৃহযুদ্ধে এই দুই প্রতিবেশী দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। দেশ দুটির সম্পর্কের কতটা অবনতি হয়েছে, তা প্রথম জানায় মিডল ইস্ট আই। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারামিলিটারি বাহিনী আরএসএফ-কে সমর্থন দেওয়ায় আমিরাতকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তদবির করেছে সৌদি আরব।

ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর ওপর হামলা চালায় সৌদি আরব। ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে আমিরাতের প্রভাব ঠেকানোর লড়াইয়ে রিয়াদ এমনকি ওমানকেও পাশে নিয়েছে।

জানা গেছে, এই টানাপোড়েন এমনকি হোয়াইট হাউস পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতি নেতার সঙ্গে এক ফোনালাপে জানান যে, সুদানের আধাসামরিক বাহিনীকে সমর্থনের অভিযোগে সৌদি যুবরাজ তাকে আমিরাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা জনসমক্ষে চলে আসে, যা কয়েক দশকের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের উষ্ণতাকে মুছে দেয়।

তবে এতকিছুর পরেও কোনো দেশই সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার ইঙ্গিত দেয়নি। দুই দেশের কর্মকর্তারাই এই সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, বড় কোনো সংকটের সময় তারা সবসময় একজোট হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার ইরান কর্তৃক আমিরাতের ওপর নতুন করে হামলার পর- সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাৎক্ষণিকভাবে শেখ মোহাম্মদকে ফোন করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে আমিরাতের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও দুই নেতার মধ্যে বিদ্যমান মৌলিক উত্তেজনা এবং তিক্ততাকে মুছে দিতে পারছে না। উপসাগরীয় এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার এই শীতল সম্পর্ক আগামী কয়েক বছর এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।