মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো জবাবকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সেই বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল, তবে বার্তার বিস্তারিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরার যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি ঠিক কবে নাগাদ বা কীভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে, সেই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত বা সময়সীমা দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্টতা মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, যেকোনো আলোচনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।
ওয়াশিংটন শুরু থেকেই এই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক এই সংকট নিরসনের পথ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডিজিটাল ডেস্ক 























