ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাইকোর্টে খারিজ অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে করা রিট রামিসার বাবা অমূলক কিছু বলেননি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী ময়মনসিংহের গৌরীপুর মহিলা কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন  ৪৪তম বিসিএস। সেই তালিকা থেকেই ১০১ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরেও বাতিল! গাঙ্গিনাপাড়ের ঐতিহাসিক ওয়াটার টাওয়ারের নিচে টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা, উদ্বেগ প্রকাশ সচেতন নাগরিকদের ! চুয়াডাঙ্গায় কামারপল্লীতে দম ফেলার ফুসরত নেই: তৈরিতে ব্যস্ততা, লাভের খাতায় হতাশা আসন্ন আগিয়া ইউপি নির্বাচন: ‘স্মার্ট ইউনিয়ন’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে উদ্যোক্তা সমর চন্দ্র সরকার ​টানা তিন দফা কমার পর দেশে বাড়ল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত ? প্রকাশিত হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মেধাতালিকা: জেনে নিন দেখার নিয়ম শুভেন্দুর নতুন নির্দেশ: রাজ্যের মাদরাসাগুলোতে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’ গান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ছেলের সঙ্গে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা: নাটোরের লালপুরে ব্যাপক আলোড়ন

​শিক্ষার কোনো বয়স নেই, ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া যায়—এই চিরন্তন সত্যকে আবারও প্রমাণ করলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ফুলঝুড়ি বেগম। দীর্ঘ ২৯ বছরের পারিবারিক ও সামাজিক ব্যস্ততা কাটিয়ে অবশেষে ছেলে মনিরুল ইসলামের (১৫) সঙ্গে ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বসেছেন তিনি। মা-ছেলের একসঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলঝুড়ি বেগম। সংসারের নানা টানাপোড়েনে একসময় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি। ছেলে মনিরুল ইসলাম যখন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পাশে বসে মা ফুলঝুড়িও নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন।

তারা দুজনই উপজেলার ‘মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’-এর কম্পিউটার ট্রেডের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে নাটোরের মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মা ও ছেলে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

একই পরীক্ষা কেন্দ্রে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখে সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। অনেকেই ফুলঝুড়ি বেগমের এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

​ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা জানান, ফুলঝুড়ি বেগমের এই উদ্যোগ সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বয়স যে শিক্ষার পথে কোনো অন্তরায় নয়, তা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। মা-ছেলের এই যুগলবন্দী সফলতা কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টে খারিজ অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে করা রিট

ছেলের সঙ্গে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা: নাটোরের লালপুরে ব্যাপক আলোড়ন

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

​শিক্ষার কোনো বয়স নেই, ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া যায়—এই চিরন্তন সত্যকে আবারও প্রমাণ করলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ফুলঝুড়ি বেগম। দীর্ঘ ২৯ বছরের পারিবারিক ও সামাজিক ব্যস্ততা কাটিয়ে অবশেষে ছেলে মনিরুল ইসলামের (১৫) সঙ্গে ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বসেছেন তিনি। মা-ছেলের একসঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলঝুড়ি বেগম। সংসারের নানা টানাপোড়েনে একসময় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি। ছেলে মনিরুল ইসলাম যখন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পাশে বসে মা ফুলঝুড়িও নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন।

তারা দুজনই উপজেলার ‘মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’-এর কম্পিউটার ট্রেডের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে নাটোরের মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মা ও ছেলে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

একই পরীক্ষা কেন্দ্রে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখে সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। অনেকেই ফুলঝুড়ি বেগমের এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

​ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা জানান, ফুলঝুড়ি বেগমের এই উদ্যোগ সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বয়স যে শিক্ষার পথে কোনো অন্তরায় নয়, তা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। মা-ছেলের এই যুগলবন্দী সফলতা কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।