হিমাগার মালিকদের বৈষম্যমূলক ও একতরফা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় ভাড়া বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ভেঙে তা পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুরের মডার্ন মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী আলু চাষিদের দাবি, চলতি বছর সিন্ডিকেট করে হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বস্তা প্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ফলে বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর জন্য হিমাগার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত, যা সাধারণ ব্যবসায়ী ও চাষিদের জন্য অত্যন্ত অমানবিক। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা নির্ধারণের জোর দাবি জানান তারা।
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক বলেন, ‘চলতি বছর আলুর সঠিক দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এর ওপর হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা আমাদের জন্য অশনিসংকেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর আলু উৎপাদনে কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকা খরচ হলেও কৃষকদের তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। উপরন্তু হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়াও যদি এভাবে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ কৃষকরা আর আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এর প্রভাবে তারা আরও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই আমরা চাই, ভাড়া বৃদ্ধির এই ঘোষণা থেকে দ্রুত সরে দাঁড়াবেন হিমাগার মালিকরা এবং বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মধ্যে রাখবেন।’
রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দেশের অন্য সব এলাকার চেয়ে রংপুরে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বেশি নেয়া হয়। কৃষকরা দিনের পর দিন আন্দোলন করে আসলেও প্রশাসন কিংবা হিমাগার মালিকরা তা কখনোই আমলে নেন না। যার ফলে প্রতি বছর বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলু থেকে অধিক মুনাফা আয় করলেও প্রকৃত কৃষকদের উৎপাদন খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়ে।’
তৈয়বুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আলুর সংরক্ষণ ব্যয় বস্তা প্রতি ছয় টাকার বেশি করলে কৃষকরা যেমন বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি সিন্ডিকেটের কারণে পরবর্তীতে বাজারে আলুর দাম বাড়বে; কিন্তু কৃষক কিছুই পাবেন না।’
এ সময় কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় হিমাগার ভাড়া সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় টাকা নির্ধারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। দাবি অবিলম্বে মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মাটি ও মানুষ ডেস্ক 




















