নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর)-কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত থেকে তার দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনের স্মৃতি ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্মৃতিচারণ ও বক্তব্য পর্বে এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ মেহেদী হাসান ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৩০ মে ছিল তার শেষ কর্মদিবস এবং ৩১ মে থেকে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান। তবে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায়। ( ২১ জুন) এই আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
ক্রীড়া ও স্কাউটিংয়ে অসামান্য অবদান
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শুধাংশু শেখর তালুকদার বলেন,
”খেলোয়াড়ি জীবনে জাহাঙ্গীর স্যার একজন সফল গোলরক্ষক হিসেবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য এনে দিয়েছেন। স্কাউটিংয়েও তার অবদান ছিল অসাধারণ। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের স্কাউট দল দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম ছিদ্দিকী মামুন বলেন, “দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিদ্যালয়কে অনেক কিছু দিয়েছেন। তার অবসর আমাদের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করবে। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও স্কাউটিং কার্যক্রমে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীর স্যার শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস। একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবে তার হাত ধরে বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
এক আবেগঘন পরিবেশ
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর) বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল ছিল না, এটি আমার দ্বিতীয় পরিবার। জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাটিয়েছি। সবসময় শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। অবসরে গেলেও এই বিদ্যালয় ও এর স্মৃতি চিরদিন আমার হৃদয়ে থাকবে।”
তার এই বিদায়ী বক্তব্যের সময় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিও এ সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
গুণীজনদের উপস্থিতি
সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান খান সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
* বাবুল চন্দ্র সরকার (সাবেক প্রধান শিক্ষক)
* এস এম এনামুল করীম (সাবেক সহকারী শিক্ষক)
* প্রাণেশ চন্দ্র দাস (সাবেক সহকারী শিক্ষক)
* শহিদুল ইসলাম (সাবেক সহকারী শিক্ষক)
* জাহানারা বেগম (সাবেক সহকারী শিক্ষক)
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও জাহাঙ্গীর স্যারের সহধর্মিণী সুরাইয়া আক্তারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাহাঙ্গীর স্যারের হাতে বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই বিদায়ী এই গুণী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সুখী ও শান্তিময় অবসর জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানান।

হারাধন সূত্রধর: পূর্বধলা (নেত্রকোনা) বিশেষ প্রতিনিধি 




















