রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ, মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য প্রতিবাদ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা। সাবেক এজিএস মোঃ রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবেশে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ, শালীন ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক এজিএস মোঃ রাসেল চৌধুরী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌজন্য, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অপপ্রচার, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জনকল্যাণমুখী ইতিবাচক রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা সবসময় রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজপথে সক্রিয় থাকবে।”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাসেল চৌধুরী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামী ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ১৯৯৯ সালে নাসিরাবাদ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেল থেকে সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন এবং সে সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেল থেকে একমাত্র এজিএস হিসেবে নির্বাচিত হন।
বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির প্রতিবাদে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার কারণে তিনি তৃণমূলের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 



















