ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত মস্কোর: আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনের নিজস্ব সদিচ্ছা ও বিদ্যমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কিয়েভের সঙ্গে পুনরায় শান্তি সংলাপে বসতে মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে অতীতে হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে এই আলোচনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্রেমলিনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নীতি নির্ধারণী বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোরালো দাবি করেন যে পূর্বের চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াটি মূলত ইউক্রেনের নিজস্ব একক সিদ্ধান্তে আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কিয়েভের সঙ্গে আলোচনার টেবিল উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে পুতিন বৈঠকে সরাসরি বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত—ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে। ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তি, অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, মাটিতে বিদ্যমান বাস্তবতার ভিত্তিতে রাশিয়া এই সংলাপে রাজি আছে।’

রুশ প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে বিভিন্ন চোরাগোপ্তা সামরিক হামলা পরিচালনা করছে যার মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আগে নিজেদের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থান বা শর্ত তৈরি করা।

পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন এবং সেখানে একটি ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সংশোধন করে ২০ দফায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেন প্রশাসন তাদের নিজেদের কোনো ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুতেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় চলতি বছরের শুরুতে মস্কো ও কিয়েভ তিন দফায় যথাক্রমে ২৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি, ৪ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ শান্তি সংলাপে অংশ নিয়েছিল যার প্রথম দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এবং শেষটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর এই সম্পূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে পুরোপুরি থমকে যায়। এ ছাড়া সংঘাতের একদম শুরুতে অর্থাৎ ২০২২ সালের বসন্তকালেও ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির খসড়া স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোগলটুলীর সেই আওয়ামী লীগ ‘বিক্রি হয়ে গেছে’বললেন মাহফুজ আলম

​শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত মস্কোর: আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

আপডেট সময় ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইউক্রেনের নিজস্ব সদিচ্ছা ও বিদ্যমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কিয়েভের সঙ্গে পুনরায় শান্তি সংলাপে বসতে মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে অতীতে হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে এই আলোচনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্রেমলিনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নীতি নির্ধারণী বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোরালো দাবি করেন যে পূর্বের চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াটি মূলত ইউক্রেনের নিজস্ব একক সিদ্ধান্তে আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কিয়েভের সঙ্গে আলোচনার টেবিল উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে পুতিন বৈঠকে সরাসরি বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত—ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে। ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তি, অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, মাটিতে বিদ্যমান বাস্তবতার ভিত্তিতে রাশিয়া এই সংলাপে রাজি আছে।’

রুশ প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে বিভিন্ন চোরাগোপ্তা সামরিক হামলা পরিচালনা করছে যার মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আগে নিজেদের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থান বা শর্ত তৈরি করা।

পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন এবং সেখানে একটি ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সংশোধন করে ২০ দফায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেন প্রশাসন তাদের নিজেদের কোনো ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুতেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় চলতি বছরের শুরুতে মস্কো ও কিয়েভ তিন দফায় যথাক্রমে ২৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি, ৪ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ শান্তি সংলাপে অংশ নিয়েছিল যার প্রথম দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এবং শেষটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর এই সম্পূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে পুরোপুরি থমকে যায়। এ ছাড়া সংঘাতের একদম শুরুতে অর্থাৎ ২০২২ সালের বসন্তকালেও ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির খসড়া স্বাক্ষরিত হয়েছিল।