ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্রাজিলকে নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের  পর অন্ধ আকলিমার পাশে ইউএনও, শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল পূর্বধলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন যাত্রীরা! ঋণখেলাপি হওয়ায় এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী লোকবল নেবে আরএফএল ​স্বর্ণের দামে সুখবর: আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন, প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারেও কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল সিলেটে ​শোকের ছায়ায় সিলেট: কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল নিজ ঠিকানায়
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন দীর্ঘ দিনের অবহেলার অবসানের আশ্বাস রেল পরিদর্শকের

দীর্ঘদিনের অবহেলা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সীমিত যাত্রীসেবার কারণে দুর্ভোগে থাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) আহাম্মদ মাহবুবর রহমান চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে তিনি স্টেশনটির সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত একটি প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

গত সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনটি ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৭ সালে নির্মিত হয়।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগকেন্দ্র।

ময়মনসিংহ থেকে গৌরীপুর হয়ে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল করে।

প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ছাউনি, বিশ্রামাগার ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। প্ল্যাটফর্মের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরোনো ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে।

এছাড়া একমাত্র ফুটওভার ব্রিজটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে, ফলে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পারাপার করতে হচ্ছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারি রেল পরিদর্শক আহাম্মদ মাহবুবর রহমান চৌধুরী বলেন,

“গুরুত্বের দিক থেকে গৌরীপুর রেলস্টেশনের অনেক আগেই উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল। বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে স্টেশনটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্টেশনে নির্মিত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. কামরুজ্জামান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মহব্বত জান, ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মো. শহিদুল্লাহ, আরএনবি ময়মনসিংহের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, গৌরীপুর স্টেশন মাস্টার মো. সহিদুল ইসলাম, গৌরীপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা সরকারি রেল পরিদর্শকের এ আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তবে তাঁদের প্রত্যাশা, আশ্বাসের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন একটি আধুনিক ও নিরাপদ স্টেশনে পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলকে নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল

ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন দীর্ঘ দিনের অবহেলার অবসানের আশ্বাস রেল পরিদর্শকের

আপডেট সময় ১০:১৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিনের অবহেলা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সীমিত যাত্রীসেবার কারণে দুর্ভোগে থাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) আহাম্মদ মাহবুবর রহমান চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে তিনি স্টেশনটির সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত একটি প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

গত সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনটি ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৭ সালে নির্মিত হয়।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগকেন্দ্র।

ময়মনসিংহ থেকে গৌরীপুর হয়ে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল করে।

প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ছাউনি, বিশ্রামাগার ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। প্ল্যাটফর্মের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরোনো ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে।

এছাড়া একমাত্র ফুটওভার ব্রিজটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে, ফলে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পারাপার করতে হচ্ছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারি রেল পরিদর্শক আহাম্মদ মাহবুবর রহমান চৌধুরী বলেন,

“গুরুত্বের দিক থেকে গৌরীপুর রেলস্টেশনের অনেক আগেই উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল। বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে স্টেশনটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্টেশনে নির্মিত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. কামরুজ্জামান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মহব্বত জান, ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মো. শহিদুল্লাহ, আরএনবি ময়মনসিংহের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, গৌরীপুর স্টেশন মাস্টার মো. সহিদুল ইসলাম, গৌরীপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা সরকারি রেল পরিদর্শকের এ আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তবে তাঁদের প্রত্যাশা, আশ্বাসের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন একটি আধুনিক ও নিরাপদ স্টেশনে পরিণত হয়।