ময়মনসিংহ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি, সনদপত্র ও গাছের চারা বিতরণ শেরপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন: র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও সনদপত্র বিতরণ পূর্বধলায় জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি, সনদপত্র ও গাছের চারা বিতরণ পূর্বধলায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এক, মোবাইল কোর্টে ১০ দিনের কারাদণ্ড পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারার অভিযোগ জামায়াত আমিরের, কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান সরকারকে পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শিবপুরে আলোচনা সভা ও র‍্যালি গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​নালিতাবাড়ীতে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ পালিত ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক বিতর্ক প্রতিযোগিতার রাউন্ড অব সিক্সটিন শুরু
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সংবিধান সংস্কার না করলে লাল কার্ড দেখতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক

সংবিধান সংস্কারের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণের লাল কার্ডের মুখে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতার মসনদ ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক।

​শনিবার রাতে কুষ্টিয়া শহীদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।​সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অন্যটি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট। সংসদ নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করালেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁদের শপথ গ্রহণ করায়নি। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের স্পষ্ট গণরায়কে উপেক্ষা করেছে।’

​তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেননি। ক্ষমতায় গিয়ে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের ফলে জনজীবনে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে এবং নতুন সরকারের আমলেও চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে।

​শেখ হাসিনার আমলের মেগা দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আগের শাসনামলে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এখন সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলছে। কিন্তু কার্ড দিয়ে জনগণের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা যাবে না। জনগণ শুধু কার্ডের রাজনীতি দেখতে চায় না; তারা গণভোটের রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।’

​সরকারকে সতর্ক করে এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দিয়েই জনগণকে সন্তুষ্ট রাখা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। জনগণের হাতেও একটি কার্ড আছে—সেটি “লাল কার্ড”। জনগণ সেই কার্ড দেখালে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’
​

দেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের আধিপত্য বা কর্তৃত্ব মেনে নেবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

​১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি তুলে ধরে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার যদি জনগণের এই দাবির প্রতি সম্মান না দেখায়, তবে সাত দফা দাবি যেকোনো সময় ‘এক দফা’য় পরিণত হতে পারে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঢাকার রাজপথে সমবেত হওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি, সনদপত্র ও গাছের চারা বিতরণ

সংবিধান সংস্কার না করলে লাল কার্ড দেখতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক

আপডেট সময় ১০:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংস্কারের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণের লাল কার্ডের মুখে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতার মসনদ ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক।

​শনিবার রাতে কুষ্টিয়া শহীদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।​সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অন্যটি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট। সংসদ নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করালেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁদের শপথ গ্রহণ করায়নি। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের স্পষ্ট গণরায়কে উপেক্ষা করেছে।’

​তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেননি। ক্ষমতায় গিয়ে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের ফলে জনজীবনে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে এবং নতুন সরকারের আমলেও চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে।

​শেখ হাসিনার আমলের মেগা দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আগের শাসনামলে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এখন সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলছে। কিন্তু কার্ড দিয়ে জনগণের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা যাবে না। জনগণ শুধু কার্ডের রাজনীতি দেখতে চায় না; তারা গণভোটের রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।’

​সরকারকে সতর্ক করে এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দিয়েই জনগণকে সন্তুষ্ট রাখা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। জনগণের হাতেও একটি কার্ড আছে—সেটি “লাল কার্ড”। জনগণ সেই কার্ড দেখালে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’
​

দেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের আধিপত্য বা কর্তৃত্ব মেনে নেবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

​১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি তুলে ধরে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার যদি জনগণের এই দাবির প্রতি সম্মান না দেখায়, তবে সাত দফা দাবি যেকোনো সময় ‘এক দফা’য় পরিণত হতে পারে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঢাকার রাজপথে সমবেত হওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।