ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে জানালেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর সুযোগ নেই বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে, আহত ১০ জাদুকরী হ্যাটট্রিক, মেসিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রশংসায় ভাসালেন স্ত্রী শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাজেটে কারিগরি শিক্ষাখাতে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বললেন শিক্ষামন্ত্রী খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দেওয়া বাজেটকে অনেকে চানাচুর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রেলস্টেশনে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের ভাঙচুর, ফেরত নিয়েছেন টিকিটের টাকা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত স্টেশনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন কয়েক শ যাত্রী। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা টিকিট পরিদর্শকদের (টিটিই) একটি কক্ষের চেয়ার-টেবিল এবং স্টেশনে রাখা কিছু চেয়ার ভাঙচুর করেন। অন্য কক্ষগুলোর দরজা তালাবদ্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে যাত্রীরা চলে যান।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক ময়েন উদ্দিন আজ সকাল ৯টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের কাউন্টার থেকেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা অনলাইনে টিকিট কাটেন, তাঁদের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখন স্টেশনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’

ময়েন উদ্দিন আরও বলেন, গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত রাজশাহী থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার মতো ছিল না। তবে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যের ছয়টি ট্রেন ছিল। এসব ট্রেন ছেড়ে যায়নি। গতকাল দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন মঙ্গলবার ভোরে রাজশাহী এসেছে।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স (ভাতা) যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতার নিরসন না হওয়ায় গতকাল মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)।রাজশাহী রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। আমাদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় কমিটি যখন কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবে, তখন ট্রেন চলবে।’

আজ সকাল ১০টা নাগাদ কিছু যাত্রী স্টেশন ছেড়ে যাননি। তাঁরা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। কী মীমাংসা হয়, তা দেখার জন্য বসে ছিলেন। দর্শনা থেকে নার্গিস বেগম (৪০) তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। সকাল থেকে ট্রেনের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন।

আবদুল মান্নান (৬৪) নামে রাজবাড়ীর একজন যাত্রী বলেন, তিনি আগের দিন এসেছিলেন রাজশাহী শহরে ব্যক্তিগত কাজে। আজ সকাল থেকে তিনি স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন।

চুয়াডাঙ্গার মনিরুদ্দিন (৭৫) তাঁর স্ত্রীসহ ভোর পাঁচটা থেকে স্টেশনে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী শহরে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন। আসার সময় ফেরত টিকিট কেটে এসেছিলেন। এখন নিরুপায় হয়ে স্টেশনে বসে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

রেলস্টেশনে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের ভাঙচুর, ফেরত নিয়েছেন টিকিটের টাকা।

আপডেট সময় ১২:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত স্টেশনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন কয়েক শ যাত্রী। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা টিকিট পরিদর্শকদের (টিটিই) একটি কক্ষের চেয়ার-টেবিল এবং স্টেশনে রাখা কিছু চেয়ার ভাঙচুর করেন। অন্য কক্ষগুলোর দরজা তালাবদ্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে যাত্রীরা চলে যান।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক ময়েন উদ্দিন আজ সকাল ৯টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের কাউন্টার থেকেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা অনলাইনে টিকিট কাটেন, তাঁদের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখন স্টেশনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’

ময়েন উদ্দিন আরও বলেন, গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত রাজশাহী থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার মতো ছিল না। তবে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যের ছয়টি ট্রেন ছিল। এসব ট্রেন ছেড়ে যায়নি। গতকাল দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন মঙ্গলবার ভোরে রাজশাহী এসেছে।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স (ভাতা) যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতার নিরসন না হওয়ায় গতকাল মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)।রাজশাহী রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। আমাদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় কমিটি যখন কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবে, তখন ট্রেন চলবে।’

আজ সকাল ১০টা নাগাদ কিছু যাত্রী স্টেশন ছেড়ে যাননি। তাঁরা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। কী মীমাংসা হয়, তা দেখার জন্য বসে ছিলেন। দর্শনা থেকে নার্গিস বেগম (৪০) তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। সকাল থেকে ট্রেনের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন।

আবদুল মান্নান (৬৪) নামে রাজবাড়ীর একজন যাত্রী বলেন, তিনি আগের দিন এসেছিলেন রাজশাহী শহরে ব্যক্তিগত কাজে। আজ সকাল থেকে তিনি স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন।

চুয়াডাঙ্গার মনিরুদ্দিন (৭৫) তাঁর স্ত্রীসহ ভোর পাঁচটা থেকে স্টেশনে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী শহরে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন। আসার সময় ফেরত টিকিট কেটে এসেছিলেন। এখন নিরুপায় হয়ে স্টেশনে বসে আছেন।