ময়মনসিংহ , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​ট্রাম্পের নতুন লক্ষ্য কিউবা? ইরান থেকে ফেরার পথে নজিরবিহীন হুমকি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ার মধ্যেই কিউবাকে যেকোনো সময় দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

গত শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি বিমানবাহী রণতরি কিউবা উপকূলে মোতায়েন করা হবে যাতে দ্বীপরাষ্ট্রটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা আমাদের বড় একটি জাহাজ কিউবার মাত্র ১০০ গজ দূরে মোতায়েন করব। এটি দেখা মাত্রই তারা বলবে—অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’

একই দিনে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর কিউবা হুমকি সৃষ্টি করছে—এমন কারণ দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।

ট্রাম্প বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান শেষে কিউবা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকার ‘পরবর্তী’ দেশ এবং এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘদিনের মার্কিন-কিউবা শীতল সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে যেমন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞারও শামিল। কিউবা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থান লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে টালমাটাল করে তুলেছে, তখন কিউবা নিয়ে নতুন এই হুমকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক হুঙ্কার নাকি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো ফ্রন্টে সামরিক অভিযানে নামতে যাচ্ছে।|

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​ট্রাম্পের নতুন লক্ষ্য কিউবা? ইরান থেকে ফেরার পথে নজিরবিহীন হুমকি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ার মধ্যেই কিউবাকে যেকোনো সময় দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

গত শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি বিমানবাহী রণতরি কিউবা উপকূলে মোতায়েন করা হবে যাতে দ্বীপরাষ্ট্রটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা আমাদের বড় একটি জাহাজ কিউবার মাত্র ১০০ গজ দূরে মোতায়েন করব। এটি দেখা মাত্রই তারা বলবে—অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’

একই দিনে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর কিউবা হুমকি সৃষ্টি করছে—এমন কারণ দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।

ট্রাম্প বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান শেষে কিউবা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকার ‘পরবর্তী’ দেশ এবং এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘদিনের মার্কিন-কিউবা শীতল সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে যেমন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বড় ধরনের অবজ্ঞারও শামিল। কিউবা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থান লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে টালমাটাল করে তুলেছে, তখন কিউবা নিয়ে নতুন এই হুমকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক হুঙ্কার নাকি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো ফ্রন্টে সামরিক অভিযানে নামতে যাচ্ছে।|