ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​রাজধানীতে প্রবাসী খুন: ৮ টুকরো লাশ উদ্ধার, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার ঘটনায় এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র‍্যাব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেজো মেয়েকে নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দরামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। তবে ঘটনার মূল হোতা ও পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে ঘাতকরা। এর মধ্যে সাত টুকরো ভাড়াবাসার নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়। আরও প্যান্ট শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত হেলেনা বেগম, তার মেয়ে ও পলাতক তাসলিমা বাইরে ঘুরতে গিয়ে হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসায় ফিরে প্রতিবেশীদের ডেকে ছাদে উৎসব বা পার্টি করেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে র‍্যাব জানায়, ১৩ মে রাতে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সাথে মোকাররম অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে হেলেনা তা দেখে ফেলেন। এই নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই রাতেই তাসলিমা ও মোকাররমের বিয়ে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। মোকাররম বিয়ে করতে চাইলেও তাসলিমা রাজি হননি, যার ফলে মোকাররম তার দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমার ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হেলেনা বঁটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার মেজো মেয়ে হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায় আঘাত করে। পরে তাসলিমা ধারালো বঁটি দিয়ে আরও তিন-চারবার আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সবাই মিলে বাথরুমে মরদেহ নিয়ে রক্তমাখা ঘর পরিষ্কার করেন এবং বাইরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসে মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে বস্তায় ভরে রাখেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ১৪ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে মরদেহের সাত টুকরো নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশটি এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ড ও ছাদ পার্টির পর ১৬ মে তাসলিমা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান এবং ১৭ মে হেলেনা তার দুই মেয়েকে নিয়ে কাজে যোগ দেন। তবে ১৭ মে দুপুরে মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের টুকরোগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত করে মোকাররমের পরিচয় নিশ্চিত করে।

ঘটনাটি নজরে আসার পর র‍্যাব-৩ গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত হেলেনা আক্তার ও তার মেজো মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। হেলেনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মোকাররমের মাথার অংশটি উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামি তাসলিমাকে গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোগলটুলীর সেই আওয়ামী লীগ ‘বিক্রি হয়ে গেছে’বললেন মাহফুজ আলম

​রাজধানীতে প্রবাসী খুন: ৮ টুকরো লাশ উদ্ধার, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য

আপডেট সময় ১০:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার ঘটনায় এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র‍্যাব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেজো মেয়েকে নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দরামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। তবে ঘটনার মূল হোতা ও পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে ঘাতকরা। এর মধ্যে সাত টুকরো ভাড়াবাসার নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়। আরও প্যান্ট শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত হেলেনা বেগম, তার মেয়ে ও পলাতক তাসলিমা বাইরে ঘুরতে গিয়ে হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসায় ফিরে প্রতিবেশীদের ডেকে ছাদে উৎসব বা পার্টি করেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে র‍্যাব জানায়, ১৩ মে রাতে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সাথে মোকাররম অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে হেলেনা তা দেখে ফেলেন। এই নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই রাতেই তাসলিমা ও মোকাররমের বিয়ে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। মোকাররম বিয়ে করতে চাইলেও তাসলিমা রাজি হননি, যার ফলে মোকাররম তার দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমার ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হেলেনা বঁটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার মেজো মেয়ে হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায় আঘাত করে। পরে তাসলিমা ধারালো বঁটি দিয়ে আরও তিন-চারবার আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সবাই মিলে বাথরুমে মরদেহ নিয়ে রক্তমাখা ঘর পরিষ্কার করেন এবং বাইরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসে মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে বস্তায় ভরে রাখেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ১৪ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে মরদেহের সাত টুকরো নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশটি এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ড ও ছাদ পার্টির পর ১৬ মে তাসলিমা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান এবং ১৭ মে হেলেনা তার দুই মেয়েকে নিয়ে কাজে যোগ দেন। তবে ১৭ মে দুপুরে মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের টুকরোগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত করে মোকাররমের পরিচয় নিশ্চিত করে।

ঘটনাটি নজরে আসার পর র‍্যাব-৩ গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত হেলেনা আক্তার ও তার মেজো মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। হেলেনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মোকাররমের মাথার অংশটি উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামি তাসলিমাকে গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।