ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব: সংকটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নকশা !

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক ও জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে আবারও উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে কোন ধরণের নেতৃত্ব প্রয়োজন তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমানের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরীক্ষিত দক্ষতা অপরিহার্য এবং এই আলোচনায় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নাম ও তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

​ ​যারা বাংলাদেশের রূপান্তরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দৃশ্যমান মেগা প্রজেক্ট (যেমন- ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এক অনস্বীকার্য বাস্তব।

​ ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট।

​ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংকটগুলোতে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার কূটনীতি একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

​ সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে গভীর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সাথে সংযোগ প্রয়োজন, তা রাতারাতি তৈরি হয় না। দীর্ঘ দুই দশকের শাসন ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেখ হাসিনাকে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যা বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে একটি বড় অনুঘটক হতে পারে।

​ ​তবে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ। অতীত শাসনব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি, সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে সমাজে ভিন্নমত ও তীব্র সমালোচনাও রয়েছে। একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে।

​ ​একটি বিষয় আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট । কোনো ক্ষণস্থায়ী বা আবেগতাড়িত ফর্মুলা দিয়ে একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতাকে যেমন অগ্রাহ্য করা যাবে না, ঠিক তেমনি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থারও বিকল্প নেই।

​একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন এদেশের মানুষ দেখে, তা বাস্তবায়নে ক্ষতিকর মেরুকরণ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞতার শক্তি এবং জনমতের প্রতিফলনই হবে প্রধান নিয়ামক।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোগলটুলীর সেই আওয়ামী লীগ ‘বিক্রি হয়ে গেছে’বললেন মাহফুজ আলম

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব: সংকটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নকশা !

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক ও জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে আবারও উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে কোন ধরণের নেতৃত্ব প্রয়োজন তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমানের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরীক্ষিত দক্ষতা অপরিহার্য এবং এই আলোচনায় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নাম ও তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

​ ​যারা বাংলাদেশের রূপান্তরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দৃশ্যমান মেগা প্রজেক্ট (যেমন- ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এক অনস্বীকার্য বাস্তব।

​ ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট।

​ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংকটগুলোতে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার কূটনীতি একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

​ সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে গভীর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সাথে সংযোগ প্রয়োজন, তা রাতারাতি তৈরি হয় না। দীর্ঘ দুই দশকের শাসন ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেখ হাসিনাকে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যা বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে একটি বড় অনুঘটক হতে পারে।

​ ​তবে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ। অতীত শাসনব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি, সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে সমাজে ভিন্নমত ও তীব্র সমালোচনাও রয়েছে। একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে।

​ ​একটি বিষয় আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট । কোনো ক্ষণস্থায়ী বা আবেগতাড়িত ফর্মুলা দিয়ে একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতাকে যেমন অগ্রাহ্য করা যাবে না, ঠিক তেমনি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থারও বিকল্প নেই।

​একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন এদেশের মানুষ দেখে, তা বাস্তবায়নে ক্ষতিকর মেরুকরণ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞতার শক্তি এবং জনমতের প্রতিফলনই হবে প্রধান নিয়ামক।