ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহের গৌরীপুরের গুজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের বেইজমেন্ট এর খনন কাজের শুভ উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পূর্বধলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র উদ্যোগে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা হাফ পাসে মেট্রোরেল ভ্রমণ: ভাড়ার অর্ধেক সাশ্রয়ের নতুন নীতিমালা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অন্যদের মতোই সমঅধিকার দেবে সরকার জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ​যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা মার্কিন দূতাবাসের নতুন পে-স্কেল ২০২৬: সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ও ভাতায় আসছে বড় পরিবর্তন ​প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর: রোববার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সস্তা আবদারে মগ্ন ছিলো পকেট নেতারা, প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চেও উপেক্ষিত কোটি মানুষের দাবি ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!

​২০১০ সালের আগস্ট। ঢাকার বাইরে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার। প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির প্রাথমিক তালিকায় সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে নাম এসেছিল ময়মনসিংহের ত্রিশালের।

কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশক পর, ২০২৬ সালেও সেই বিমানবন্দর কেবলই এক ধূসর স্বপ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহ অঞ্চল সফরকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোটি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। আশা ছিল, এবার হয়তো আলোর মুখ দেখবে ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কিন্তু আফসোস! প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের পর এখন চারদিকে কেবলই হতাশার গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী কেন ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘোষণা দিয়ে গেলেন না?
​এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে যে নির্মম সত্যটি বেরিয়ে এসেছে, তা হলো বর্তমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক চরম ‘রাজনৈতিক শূন্যতা’। এই অঞ্চলে আজ দলীয় নেতার অভাব নেই, অভাব কেবল একজন প্রকৃত ‘জননেতার’। এমন কোনো নেতা নেই যার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে বুক ফুলিয়ে তুলে ধরার মতো সৎ সাহস আছে, কিংবা তা আদায় করে ছাড়ার মতো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আছে।

​প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থানীয় ছোটখাটো ও মৌসুমী নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছিল পুরো এলাকা। কিন্তু সেইসব ব্যানারে ছিল কেবল নিজেদের জাহির করার প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা যেটুকু আবদার করেছেন, তা নেহায়েত প্রয়োজনহীন এবং সস্তা। নিজের আখের গোছানো রাজনীতিতে ব্যস্ত এই তথাকথিত নেতারা বৃহত্তর ময়মনসিংহের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের ফুসফুস ‘ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস পাননি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনী মঞ্চে বা জনসভায় এই বিমানবন্দর দাবির কোনো দৃশ্যমান চিত্রই চোখে পড়েনি। ময়মনসিংহবাসীকে ক্ষুব্ধ ও স্তব্ধ করেছে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অতীতে যখন ত্রিশালে বিমানবন্দর করার মোক্ষম সুযোগ এসেছিল, তখন একদল স্বার্থান্বেষী মৎস্য ব্যবসায়ী নিজেদের কাঁচা পয়সার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একজোট হয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনের তীব্রতা ও জনরোষের মুখে রাজনৈতিকভাবে সরকার ওই স্থানে বিমানবন্দর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। অথচ, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা কতটা বদলে যেত, তা বোঝার মতো দূরদর্শিতা তৎকালীন আন্দোলনকারী বা আজকের চাটুকার নেতাদের নেই।

​সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং দ্রুত যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। বিশেষ করে,ময়মনসিংহ অঞ্চলের জনপ্রিয় মুখপত্র ‘দৈনিক মাটি ও মানুষ’ পত্রিকার পাতায় বহুবার লেখনীর মাধ্যমে পুনরায় এই বিভাগে একটি বিমানবন্দর স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে।

​নাগরিক সমাজ চিল্লাচ্ছে, সংবাদপত্র লিখছে কিন্তু যাদের কানে এই আওয়াজ পৌঁছানোর কথা, সেই রাজনৈতিক অভিভাবকেরা আজ বধির। তাদের কাছে জনগণের চেয়ে নিজের চেয়ার আর তৈলমর্দনের রাজনীতিই বড়।

​ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না হওয়াটা কেবল সরকারের উদাসীনতা নয়, বরং এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহের তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের চরম ব্যর্থতা । যতক্ষণ না এই অঞ্চলে একজন সৎ, সাহসী এবং জনগণের বুক ফুঁঁলিয়ে কথা বলা ‘জননেতা’ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ময়মনসিংহের কপালে এমন অবহেলা আর উন্নয়ন-বঞ্চনার সিলমোহর লেগেই থাকবে। ত্রিশাল বিমানবন্দর ফাইল বন্দিই থেকে যাবে, আর ময়মনসিংহবাসী তাকিয়ে থাকবে একরাশ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান

সস্তা আবদারে মগ্ন ছিলো পকেট নেতারা, প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চেও উপেক্ষিত কোটি মানুষের দাবি ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর!

আপডেট সময় ১১:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

​২০১০ সালের আগস্ট। ঢাকার বাইরে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার। প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির প্রাথমিক তালিকায় সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে নাম এসেছিল ময়মনসিংহের ত্রিশালের।

কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশক পর, ২০২৬ সালেও সেই বিমানবন্দর কেবলই এক ধূসর স্বপ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহ অঞ্চল সফরকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোটি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। আশা ছিল, এবার হয়তো আলোর মুখ দেখবে ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কিন্তু আফসোস! প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের পর এখন চারদিকে কেবলই হতাশার গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী কেন ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘোষণা দিয়ে গেলেন না?
​এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে যে নির্মম সত্যটি বেরিয়ে এসেছে, তা হলো বর্তমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক চরম ‘রাজনৈতিক শূন্যতা’। এই অঞ্চলে আজ দলীয় নেতার অভাব নেই, অভাব কেবল একজন প্রকৃত ‘জননেতার’। এমন কোনো নেতা নেই যার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে বুক ফুলিয়ে তুলে ধরার মতো সৎ সাহস আছে, কিংবা তা আদায় করে ছাড়ার মতো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আছে।

​প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থানীয় ছোটখাটো ও মৌসুমী নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছিল পুরো এলাকা। কিন্তু সেইসব ব্যানারে ছিল কেবল নিজেদের জাহির করার প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা যেটুকু আবদার করেছেন, তা নেহায়েত প্রয়োজনহীন এবং সস্তা। নিজের আখের গোছানো রাজনীতিতে ব্যস্ত এই তথাকথিত নেতারা বৃহত্তর ময়মনসিংহের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের ফুসফুস ‘ত্রিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস পাননি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনী মঞ্চে বা জনসভায় এই বিমানবন্দর দাবির কোনো দৃশ্যমান চিত্রই চোখে পড়েনি। ময়মনসিংহবাসীকে ক্ষুব্ধ ও স্তব্ধ করেছে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অতীতে যখন ত্রিশালে বিমানবন্দর করার মোক্ষম সুযোগ এসেছিল, তখন একদল স্বার্থান্বেষী মৎস্য ব্যবসায়ী নিজেদের কাঁচা পয়সার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একজোট হয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনের তীব্রতা ও জনরোষের মুখে রাজনৈতিকভাবে সরকার ওই স্থানে বিমানবন্দর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। অথচ, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা কতটা বদলে যেত, তা বোঝার মতো দূরদর্শিতা তৎকালীন আন্দোলনকারী বা আজকের চাটুকার নেতাদের নেই।

​সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং দ্রুত যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। বিশেষ করে,ময়মনসিংহ অঞ্চলের জনপ্রিয় মুখপত্র ‘দৈনিক মাটি ও মানুষ’ পত্রিকার পাতায় বহুবার লেখনীর মাধ্যমে পুনরায় এই বিভাগে একটি বিমানবন্দর স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে।

​নাগরিক সমাজ চিল্লাচ্ছে, সংবাদপত্র লিখছে কিন্তু যাদের কানে এই আওয়াজ পৌঁছানোর কথা, সেই রাজনৈতিক অভিভাবকেরা আজ বধির। তাদের কাছে জনগণের চেয়ে নিজের চেয়ার আর তৈলমর্দনের রাজনীতিই বড়।

​ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না হওয়াটা কেবল সরকারের উদাসীনতা নয়, বরং এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহের তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের চরম ব্যর্থতা । যতক্ষণ না এই অঞ্চলে একজন সৎ, সাহসী এবং জনগণের বুক ফুঁঁলিয়ে কথা বলা ‘জননেতা’ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ময়মনসিংহের কপালে এমন অবহেলা আর উন্নয়ন-বঞ্চনার সিলমোহর লেগেই থাকবে। ত্রিশাল বিমানবন্দর ফাইল বন্দিই থেকে যাবে, আর ময়মনসিংহবাসী তাকিয়ে থাকবে একরাশ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে।