ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহের গৌরীপুরের গুজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের বেইজমেন্ট এর খনন কাজের শুভ উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পূর্বধলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র উদ্যোগে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা হাফ পাসে মেট্রোরেল ভ্রমণ: ভাড়ার অর্ধেক সাশ্রয়ের নতুন নীতিমালা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অন্যদের মতোই সমঅধিকার দেবে সরকার জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ​যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা মার্কিন দূতাবাসের নতুন পে-স্কেল ২০২৬: সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ও ভাতায় আসছে বড় পরিবর্তন ​প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর: রোববার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হামের টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি। 

আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে।

হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

সময়মতো টিকা না দেওয়ায় সারা দেশেই হাম সংক্রমনের বলি হচ্ছে দেশের শিশুরা।

প্রশ্ন উঠেছে, যে রোগে মৃত্যু শূন্যে নেমেছিল, সেই রোগেই এত প্রাণ কেন যাচ্ছে? এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকার অভাবেই হাম সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন হামের পরেই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও দশটি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যাক্তা। আমরা সেগুলো আজকে বণ্টন করব।

আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছে। আমরা চেষ্টা করছি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটা দেওয়া কোনো অসুবিধা হবে না।

আমরা অ্যান্টিরেবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিনেসন এখন চলছে।

ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাবো। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেবো। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।

হামের টিকার সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা করা হলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো আশা করি। আমরা তো টিকাই দিচ্ছি। হামের টিকার ওপরে তো আর কোন ট্রিটমেন্ট নেই। ইট টজ ‍এ কন্টিনিউয়াজ প্রসেস। উই আর কন্টিনিউ এভরি ডে। এমন না যে আমাদের টার্গেট শেষ হয়ে গেলে আমরা অফ হয়ে যাবো, আমরা খুঁজে খুজে টিকা দিবো। যেখানে হান্ড্রেড পার্সেন্ট টার্গেট আমাদের হয়েছে ওয়ালর্ড হেল্থ অর্গানাজেশন স্বীকার করেছে যে আমাদের টার্গেট ফিলাপ হয়েছে।এখন আমরা উই আর লুকিং ফর দ্য বেবিস আনভ্যাক্সিনেটেট। আমাদের রুটিন ইপিআই চলমান রয়েছে।

এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

হামের প্রাদুর্ভাবে খালি হচ্ছে অনেক মায়ের কোল। সন্তান হারানোর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। এরইমধ্যে মৃত্যু ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে, বর্তমানে দেশজুড়ে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯৮ ভাগ শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ নেই।

টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন কিনা, এমন প্রশ্ন উত্তরে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত করবো না সেটা বলিনি। এখন আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব। টিকা নিয়ে কি ভুল করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়ের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান

হামের টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি। 

আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে।

হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

সময়মতো টিকা না দেওয়ায় সারা দেশেই হাম সংক্রমনের বলি হচ্ছে দেশের শিশুরা।

প্রশ্ন উঠেছে, যে রোগে মৃত্যু শূন্যে নেমেছিল, সেই রোগেই এত প্রাণ কেন যাচ্ছে? এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকার অভাবেই হাম সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন হামের পরেই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও দশটি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যাক্তা। আমরা সেগুলো আজকে বণ্টন করব।

আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছে। আমরা চেষ্টা করছি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটা দেওয়া কোনো অসুবিধা হবে না।

আমরা অ্যান্টিরেবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিনেসন এখন চলছে।

ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাবো। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেবো। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।

হামের টিকার সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা করা হলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো আশা করি। আমরা তো টিকাই দিচ্ছি। হামের টিকার ওপরে তো আর কোন ট্রিটমেন্ট নেই। ইট টজ ‍এ কন্টিনিউয়াজ প্রসেস। উই আর কন্টিনিউ এভরি ডে। এমন না যে আমাদের টার্গেট শেষ হয়ে গেলে আমরা অফ হয়ে যাবো, আমরা খুঁজে খুজে টিকা দিবো। যেখানে হান্ড্রেড পার্সেন্ট টার্গেট আমাদের হয়েছে ওয়ালর্ড হেল্থ অর্গানাজেশন স্বীকার করেছে যে আমাদের টার্গেট ফিলাপ হয়েছে।এখন আমরা উই আর লুকিং ফর দ্য বেবিস আনভ্যাক্সিনেটেট। আমাদের রুটিন ইপিআই চলমান রয়েছে।

এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

হামের প্রাদুর্ভাবে খালি হচ্ছে অনেক মায়ের কোল। সন্তান হারানোর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। এরইমধ্যে মৃত্যু ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে, বর্তমানে দেশজুড়ে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯৮ ভাগ শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ নেই।

টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন কিনা, এমন প্রশ্ন উত্তরে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত করবো না সেটা বলিনি। এখন আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব। টিকা নিয়ে কি ভুল করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়ের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।