ময়মনসিংহ , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

“৪৫ দিনের লক্ষ্যমাত্রা: রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অপেক্ষায় দেশ”

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার পর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে অন্তত ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “জ্বালানি লোডিং দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে, এখন আমরা উৎপাদনের পথে এগোচ্ছি।”

পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শৌকত আকবর বলেন, “ইউরেনিয়াম লোডিং প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমেই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা চেইন রিঅ্যাকশনের সূচনা ঘটে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ভিত্তি।”

নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন। ধাপে ধাপে প্রকল্পের দায়িত্ব দেশীয় বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হবে এবং ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“৪৫ দিনের লক্ষ্যমাত্রা: রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অপেক্ষায় দেশ”

আপডেট সময় ১২:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার পর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে অন্তত ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “জ্বালানি লোডিং দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে, এখন আমরা উৎপাদনের পথে এগোচ্ছি।”

পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শৌকত আকবর বলেন, “ইউরেনিয়াম লোডিং প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমেই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা চেইন রিঅ্যাকশনের সূচনা ঘটে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ভিত্তি।”

নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন। ধাপে ধাপে প্রকল্পের দায়িত্ব দেশীয় বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হবে এবং ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।