ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহের গৌরীপুরের গুজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের বেইজমেন্ট এর খনন কাজের শুভ উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পূর্বধলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র উদ্যোগে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা হাফ পাসে মেট্রোরেল ভ্রমণ: ভাড়ার অর্ধেক সাশ্রয়ের নতুন নীতিমালা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অন্যদের মতোই সমঅধিকার দেবে সরকার জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ​যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা মার্কিন দূতাবাসের নতুন পে-স্কেল ২০২৬: সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ও ভাতায় আসছে বড় পরিবর্তন ​প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর: রোববার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক বন্ধকি জমি ফিরে পেল পরিবার

পঞ্চাশের দশকে মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা হয়েছিল ৯ শতক জমি। সেই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৬৫ বছর। মামলা, আপিল আর আইনি জটিলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছে কুড়িগ্রামের একটি পরিবার।

​গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীপক্ষকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম। জমি হস্তান্তরের সময় ঢাকঢোল বাজানো ও লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ঢল নামে।

বিরোধের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে স্থানীয় আলেপ উদ্দিন তার ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিনের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধকি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বছির উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমিটি টাউন চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক ব্যক্তিকে এর দেখভালের দায়িত্ব দেন।

জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনি দখল ফিরে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে যেতে পারেননি তিনি; মামলার নিষ্পত্তির আগেই ১৯৭২ সালে মারা যান আলেপ উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর পর হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। ছেলে আব্দুস সাত্তার ও তার ভাই-বোনেরা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশক ধরে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

​অবশেষে অধিকার লাভ
​আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর বুধবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমির দখল বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে প্রশাসন। উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
​তবে মূল মামলাটি ৯ শতক জমি নিয়ে হলেও বর্তমানে পরিবারটি ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছে। বাকি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

​আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন:
“আমার বাবার শুরু করা লড়াই আমরা সন্তানরা চালিয়ে গেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।”
​৬৫ বছর পর পৈতৃক ভিটার অধিকার ফিরে পাওয়ায় আব্দুস সাত্তারসহ তার চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে এখন দীর্ঘদিনের জটলা শেষে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক বন্ধকি জমি ফিরে পেল পরিবার

আপডেট সময় ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পঞ্চাশের দশকে মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা হয়েছিল ৯ শতক জমি। সেই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৬৫ বছর। মামলা, আপিল আর আইনি জটিলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছে কুড়িগ্রামের একটি পরিবার।

​গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীপক্ষকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম। জমি হস্তান্তরের সময় ঢাকঢোল বাজানো ও লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ঢল নামে।

বিরোধের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে স্থানীয় আলেপ উদ্দিন তার ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিনের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধকি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বছির উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমিটি টাউন চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক ব্যক্তিকে এর দেখভালের দায়িত্ব দেন।

জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনি দখল ফিরে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে যেতে পারেননি তিনি; মামলার নিষ্পত্তির আগেই ১৯৭২ সালে মারা যান আলেপ উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর পর হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। ছেলে আব্দুস সাত্তার ও তার ভাই-বোনেরা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ছয় দশক ধরে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

​অবশেষে অধিকার লাভ
​আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর বুধবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমির দখল বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে প্রশাসন। উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
​তবে মূল মামলাটি ৯ শতক জমি নিয়ে হলেও বর্তমানে পরিবারটি ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছে। বাকি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

​আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন:
“আমার বাবার শুরু করা লড়াই আমরা সন্তানরা চালিয়ে গেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের নানা প্রতিকূলতা ও হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।”
​৬৫ বছর পর পৈতৃক ভিটার অধিকার ফিরে পাওয়ায় আব্দুস সাত্তারসহ তার চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে এখন দীর্ঘদিনের জটলা শেষে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।