ময়মনসিংহ , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেত্রকোনার কলমাকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবা ব্যাহত শিক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান: না জানিয়েই কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা জ্বালানি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ হবে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ আদালতে হাজির না হওয়ায় মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে পরোয়ানা তৌকীর আমার জীবনের ‘প্রথম ভিলেন’ জানিয়েছেন আবুল হায়াত ​বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে পর্তুগালের প্রতি আহ্বান প্রশাসনহীন নালিতাবাড়ী: থেমে ছে উন্নয়ন : বেড়েছে ভোগান্তি ” ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিবাদ ও সতর্কতা পূর্বধলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অস্তিত্ব সংকটে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বাঁশ-বেতশিল্প

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বাঁশ-বেতশিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে যা একসময়ের সম্ভাবনাময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ছিলো। প্লাস্টিক পণ্যের অবাধ ব্যবহারসহ বিগত দুই বছরের করোনা মহামারির প্রভাবে এ শিল্পের বিলুপ্তি কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

৮০ থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত বাঁশ-বেতের দ্রব্যাদি তৈরি নিয়ে নারী ও পুরুষের কোলাহলে মুখর থাকত ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর পুরাতন বন্দর (বুড়াবন্দর) গ্রাম। এ গ্রামের বাঁশের তৈরি শিখাই, ফলদানি, বাস্কেট, বক্স, বিউটি বক্স, কসমেটিক্স বক্স, টি ট্রে, বিয়ের ডালা, লাইট সেট, মাথার ক্লিপ, কলমদানিসহ চোখ ধাঁধাঁনো নানান জিনিসপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি হতো এখান থেকে। নির্দিষ্ট আকার আকৃতির এসব পণ্য পুরো ফুলবাড়ীতেই তৈরি হতো।

এখানকার নারী ও পুরুষের নিপুণ হাতের তৈরি বাঁশের পণ্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, জার্মানি, হল্যান্ডসহ বিভিন্ন উন্নতশীল দেশে রপ্তানি করা হতো। এ কারণে ফলে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, রপ্তানিকারক, বায়ার, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকত গ্রাম। বর্তমানে শুধু বৈশাখী মেলাকেন্দ্রিক হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। বাপ-দাদার এই পেশা হারিয়ে যেতে বসলেও শত কষ্টের মধ্যেও এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন ৩ পরিবার।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী সনদ’ অর্জনকারী উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর পুরাতন বন্দর (বুড়াবন্দর) গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন সামন্ত বলেন, বৈদেশিক বাজার হারিয়ে এ গ্রামের কয়েকজন ঢাকার বৈশাখী মেলার উদ্দেশ্যে সারা বছর ধরে পণ্য তৈরি করতেন। করোনার প্রভাবে কয়েক বছর থেকে তেমন মেলা না হওয়ায় সেই কাজও হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ১৯৯০ সালের পর সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউই এই শিল্পকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে মাত্র দু-তিনটি পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ব্যাংক থেকে এ শিল্পের নামে কোনো বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্পীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পেশায় টিকতে না পেরে একই এলাকার মরহুম ফারায়েজ মাওলানার ছেলে মানিক মিয়া, লালু সামন্তের ছেলে তপন সামন্ত, মরহুম আজগর আলীর ছেলে সারওয়ার হোসেন সবুজ, কালিদাস, দিলীপ সামন্ত, গৌড়াঙ্গ সামন্ত, কমল সামন্তসহ অন্তত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ পেশা বদলেছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮০’র দশকে হ্যান্ডি ক্রাফটের (হস্তজাত শিল্প) ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন সেটি নেই। স্বল্প সুদের ঋণ ক্ষেত্রেও এ শিল্পের শিল্পীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে

অস্তিত্ব সংকটে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বাঁশ-বেতশিল্প

আপডেট সময় ১২:০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বাঁশ-বেতশিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে যা একসময়ের সম্ভাবনাময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ছিলো। প্লাস্টিক পণ্যের অবাধ ব্যবহারসহ বিগত দুই বছরের করোনা মহামারির প্রভাবে এ শিল্পের বিলুপ্তি কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

৮০ থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত বাঁশ-বেতের দ্রব্যাদি তৈরি নিয়ে নারী ও পুরুষের কোলাহলে মুখর থাকত ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর পুরাতন বন্দর (বুড়াবন্দর) গ্রাম। এ গ্রামের বাঁশের তৈরি শিখাই, ফলদানি, বাস্কেট, বক্স, বিউটি বক্স, কসমেটিক্স বক্স, টি ট্রে, বিয়ের ডালা, লাইট সেট, মাথার ক্লিপ, কলমদানিসহ চোখ ধাঁধাঁনো নানান জিনিসপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি হতো এখান থেকে। নির্দিষ্ট আকার আকৃতির এসব পণ্য পুরো ফুলবাড়ীতেই তৈরি হতো।

এখানকার নারী ও পুরুষের নিপুণ হাতের তৈরি বাঁশের পণ্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, জার্মানি, হল্যান্ডসহ বিভিন্ন উন্নতশীল দেশে রপ্তানি করা হতো। এ কারণে ফলে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, রপ্তানিকারক, বায়ার, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকত গ্রাম। বর্তমানে শুধু বৈশাখী মেলাকেন্দ্রিক হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। বাপ-দাদার এই পেশা হারিয়ে যেতে বসলেও শত কষ্টের মধ্যেও এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন ৩ পরিবার।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী সনদ’ অর্জনকারী উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর পুরাতন বন্দর (বুড়াবন্দর) গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন সামন্ত বলেন, বৈদেশিক বাজার হারিয়ে এ গ্রামের কয়েকজন ঢাকার বৈশাখী মেলার উদ্দেশ্যে সারা বছর ধরে পণ্য তৈরি করতেন। করোনার প্রভাবে কয়েক বছর থেকে তেমন মেলা না হওয়ায় সেই কাজও হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ১৯৯০ সালের পর সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউই এই শিল্পকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে মাত্র দু-তিনটি পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ব্যাংক থেকে এ শিল্পের নামে কোনো বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্পীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পেশায় টিকতে না পেরে একই এলাকার মরহুম ফারায়েজ মাওলানার ছেলে মানিক মিয়া, লালু সামন্তের ছেলে তপন সামন্ত, মরহুম আজগর আলীর ছেলে সারওয়ার হোসেন সবুজ, কালিদাস, দিলীপ সামন্ত, গৌড়াঙ্গ সামন্ত, কমল সামন্তসহ অন্তত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ পেশা বদলেছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮০’র দশকে হ্যান্ডি ক্রাফটের (হস্তজাত শিল্প) ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন সেটি নেই। স্বল্প সুদের ঋণ ক্ষেত্রেও এ শিল্পের শিল্পীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।