বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইসিসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরেই এই বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) ছয়টি খণ্ডে বিভক্ত এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি। প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ইতিমধ্যে প্রতিবেদনটি নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি অবগত করা সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার।
আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ার-বহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই তিনি কমিটির মুখোমুখি হননি। এই প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, আসিফ মাহমুদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে এবং আইসিসির সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদ আরও একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছেন যে, বিসিবির পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আসিফের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তী বোর্ডে রাখার প্রলোভন দেখিয়ে অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পরিচালকদের পদত্যাগে বাধ্য করছেন আমিনুল হক।
উল্লেখ্য, বিসিবির ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ জন পদত্যাগ করেছেন। এই অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তিনি এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ফেসবুকে অনেক সময় সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের দাবি সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করার দায়িত্ব তিনি সাংবাদিকদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে সব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন বা ভবিষ্যতের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

ডিজিটাল রিপোর্ট 
























