পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মেশিন ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভজনপুর, আঠকারী ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই মেশিন ব্যবহার করে অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে মেশিনের সাহায্যে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়াসহ পরিবেশ ও ভূমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকায় বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী মেশিন বসিয়ে ভূগর্ভস্থ ও নদীর তলদেশ থেকে পাথর ও বালু তোলা হচ্ছে। তবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, কীভাবে মেশিনগুলো পরিচালিত হচ্ছে এবং উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বৈধ অনুমতি বা লিজ রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি, উর্বর কৃষিজমির ক্ষতি এবং নদীতীরবর্তী বসতবাড়িগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পাথর ও বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। বিশেষ করে অবৈধ এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, উত্তোলনের বৈধতা যাচাই এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পাথর ও বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















