ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাইপলাইনে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি বলেছেন মির্জা ফখরুল পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন গৌরীপুরে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর গণপদত্যাগ রাঙামাটির জুরাছড়িতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নদী দূষণে ডলফিন ও মানুষ উভয়ই বিপদে বললেন রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেছেন, নদী দূষণের কারণে ডলফিন মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে এবং এতে মানুষও বিপদের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।’ 

আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এই কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নদীর পানি দূষিত হলে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও; নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

পরিবেশ উপদেষ্টা নদী দূষণের জন্য ‘মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকে’ দায়ী করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

তিনি সতর্ক করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ ও মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান

নদী দূষণে ডলফিন ও মানুষ উভয়ই বিপদে বললেন রিজওয়ানা হাসান

আপডেট সময় ০১:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেছেন, নদী দূষণের কারণে ডলফিন মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে এবং এতে মানুষও বিপদের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।’ 

আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এই কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নদীর পানি দূষিত হলে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও; নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

পরিবেশ উপদেষ্টা নদী দূষণের জন্য ‘মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকে’ দায়ী করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

তিনি সতর্ক করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ ও মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।