ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে বললেন আখতার হোসেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বড় রদবদল: স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান ​জাতীয় নির্বাচনের পাঠ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে নামছে নির্বাচন কমিশন পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার জনদুর্ভোগ লাঘবে নারী এমপির অনুদান; সড়ক সংস্কারে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ​আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা মোস্তফা জিকোর, প্রত্যাশা আরও এক বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ: ‘টাকার বিনিময়ে ম্যাচ হেরেছি’, অভিযোগ মিশর কোচের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ​কারবালার পথে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নদী দূষণে ডলফিন ও মানুষ উভয়ই বিপদে বললেন রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেছেন, নদী দূষণের কারণে ডলফিন মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে এবং এতে মানুষও বিপদের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।’ 

আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এই কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নদীর পানি দূষিত হলে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও; নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

পরিবেশ উপদেষ্টা নদী দূষণের জন্য ‘মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকে’ দায়ী করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

তিনি সতর্ক করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ ও মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা

নদী দূষণে ডলফিন ও মানুষ উভয়ই বিপদে বললেন রিজওয়ানা হাসান

আপডেট সময় ০১:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেছেন, নদী দূষণের কারণে ডলফিন মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে এবং এতে মানুষও বিপদের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।’ 

আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এই কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নদীর পানি দূষিত হলে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও; নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

পরিবেশ উপদেষ্টা নদী দূষণের জন্য ‘মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকে’ দায়ী করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

তিনি সতর্ক করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ ও মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।