ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
একযোগে বদলি ২২ বিচারক আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকে ৫০ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ​ভারতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১২ শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু দেশে ফিরলেন ৬৩ হাজার ৭৮৩ জন হাজি শিবিরের সাবেক সদস্যদের সংখ্যাও কোটি ছাড়িয়েছে বললেন সভাপতি সাদ্দাম ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাইজ প্রকল্পের সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশের তৎপরতা: মানবকণ্ঠ প্রতিনিধির হারানো মোবাইল উদ্ধার নেত্রকোনার খালিয়াজুরী প্রেসক্লাব আহবায়কের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে অনুদান  হাতানোর অভিযোগ ​দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ তারেক রহমানের
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী প্রেসক্লাব আহবায়কের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে অনুদান  হাতানোর অভিযোগ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং কর্মস্থল নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসায় নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি উঠেছে। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন মহল এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাস হলেও মো. হাবিবুল্লাহ প্রায় দুই বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে আছেন। পদে থেকে ক্লাবের সাধারণ সভা কিংবা নির্বাচন দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম, আর্থিক জবাবদিহিতা ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি সদস্যদের।

প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, গত দুই বছরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হলেও এর আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। তারা অনুদানের অর্থের উৎস, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান দাবি করেছেন।

প্রেসক্লাব সদস্য মামুন ইয়ার চৌধুরী বলেন, ‘প্রেসক্লাবের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. হাবিবুল্লাহ নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত কর্মচারী। পাশাপাশি  উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে পরিচয় বহন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি নিয়মিতভাবে মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করেন না।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী পিন্টুসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও শিক্ষক তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন।
নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘হাবিবুল্লাহ সপ্তাহের কয়েকটি কর্মদিবসে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। বিষয়টি সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীমকে অবহিত করা হয়েছিল।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ২১ মাস ধরে প্রেসক্লাবের দায়িত্ব পালন করছি। খুব শিগগিরই সাধারণ সভা আহ্বান করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়নি। সাংবাদিকতা বা প্রেসক্লাব থেকে আমি কোনো আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করি না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল বারী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কোনো কর্মচারীর সাংবাদিকতা বা সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমার জানা নেই।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি। তবে প্রেসক্লাবের অনুদানের অর্থের হিসাব প্রকাশ, মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির অভিযোগ যাচাই এবং প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা ও স্থানীয় সচেতন মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একযোগে বদলি ২২ বিচারক

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী প্রেসক্লাব আহবায়কের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে অনুদান  হাতানোর অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৩২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং কর্মস্থল নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসায় নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি উঠেছে। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন মহল এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাস হলেও মো. হাবিবুল্লাহ প্রায় দুই বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে আছেন। পদে থেকে ক্লাবের সাধারণ সভা কিংবা নির্বাচন দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম, আর্থিক জবাবদিহিতা ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি সদস্যদের।

প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, গত দুই বছরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হলেও এর আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। তারা অনুদানের অর্থের উৎস, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান দাবি করেছেন।

প্রেসক্লাব সদস্য মামুন ইয়ার চৌধুরী বলেন, ‘প্রেসক্লাবের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. হাবিবুল্লাহ নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত কর্মচারী। পাশাপাশি  উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে পরিচয় বহন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি নিয়মিতভাবে মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করেন না।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী পিন্টুসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও শিক্ষক তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন।
নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘হাবিবুল্লাহ সপ্তাহের কয়েকটি কর্মদিবসে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। বিষয়টি সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীমকে অবহিত করা হয়েছিল।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ২১ মাস ধরে প্রেসক্লাবের দায়িত্ব পালন করছি। খুব শিগগিরই সাধারণ সভা আহ্বান করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়নি। সাংবাদিকতা বা প্রেসক্লাব থেকে আমি কোনো আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করি না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল বারী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কোনো কর্মচারীর সাংবাদিকতা বা সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমার জানা নেই।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি। তবে প্রেসক্লাবের অনুদানের অর্থের হিসাব প্রকাশ, মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির অভিযোগ যাচাই এবং প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা ও স্থানীয় সচেতন মানুষ।