ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাবনার উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা হচ্ছে রাবিতে

শরীরের রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনের আগে তিনজন শিক্ষার্থী সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত দেন। পরে সেই রক্ত দিয়ে সাদা কাপড়ে ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক’ লিখে ব্যানার তৈরি করা হয়। সেই ব্যানারে রক্তমাখা হাতের ছাপও দেন শিক্ষার্থীরা। পরে ওই ব্যানার দিয়ে মানববন্ধন পালন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা একটি মীমাংসিত বিষয়। তবুও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার মতো একটি অনৈতিক বিষয়কে বহাল রেখেছে। জুলাই বিপ্লবে তাদের ভাইয়ের তাজা রক্তের ঘ্রাণ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকে পৌঁছায়নি। তাই তারা আবারও শরীরের রক্ত বের করে ব্যানার বানিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে টাঙিয়ে দেবেন। যাতে সেখানে ঢুকতে গেলে কর্তাব্যক্তিদের নাকে তাদের ভাইয়ের রক্তের ঘ্রাণ পৌঁছায়।

রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, আমরা ধারণা করছি, চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত ভাইদের রক্তের ঘ্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নাকে পৌঁছাচ্ছে না। তাই আজ আমরা রক্তসংহতি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, আজকের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোষ্য কোটা আমরা মেনে নেব না। পোষ্য কোটার মতো একটি নিকৃষ্ট কোটা আমরা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিল করতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন। স্মারকলিপি, আমরণ অনশন, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতীকী ‘কবর’, গণস্বাক্ষর, জুতা নিক্ষেপের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে ২০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। তিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি ওই কমিটি। এর মধ্যে ওই কমিটি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা হচ্ছে রাবিতে

আপডেট সময় ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

শরীরের রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনের আগে তিনজন শিক্ষার্থী সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত দেন। পরে সেই রক্ত দিয়ে সাদা কাপড়ে ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক’ লিখে ব্যানার তৈরি করা হয়। সেই ব্যানারে রক্তমাখা হাতের ছাপও দেন শিক্ষার্থীরা। পরে ওই ব্যানার দিয়ে মানববন্ধন পালন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা একটি মীমাংসিত বিষয়। তবুও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার মতো একটি অনৈতিক বিষয়কে বহাল রেখেছে। জুলাই বিপ্লবে তাদের ভাইয়ের তাজা রক্তের ঘ্রাণ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকে পৌঁছায়নি। তাই তারা আবারও শরীরের রক্ত বের করে ব্যানার বানিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে টাঙিয়ে দেবেন। যাতে সেখানে ঢুকতে গেলে কর্তাব্যক্তিদের নাকে তাদের ভাইয়ের রক্তের ঘ্রাণ পৌঁছায়।

রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, আমরা ধারণা করছি, চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত ভাইদের রক্তের ঘ্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নাকে পৌঁছাচ্ছে না। তাই আজ আমরা রক্তসংহতি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, আজকের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোষ্য কোটা আমরা মেনে নেব না। পোষ্য কোটার মতো একটি নিকৃষ্ট কোটা আমরা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিল করতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন। স্মারকলিপি, আমরণ অনশন, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতীকী ‘কবর’, গণস্বাক্ষর, জুতা নিক্ষেপের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে ২০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। তিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি ওই কমিটি। এর মধ্যে ওই কমিটি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।