ময়মনসিংহ , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান ১ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেফতার নেত্রকোনা পূর্বধলা বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ সহ গ্রেফতার ১ নালিতাবাড়ীতে টয়লেট থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী আর নেই চুরির অপবাদ ও খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন: অপমান সইতে না পেরে কিশোরীর আত্মহনন যুবককে কুপিয়ে হত্যা খুলনায় আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হজে গিয়ে , মোট ১২ চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি নারায়ণগঞ্জে ​অপেক্ষার অবসান হচ্ছে জুনে; জেনে নিন কবে ঘোষণা হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বন্দী ছেলেকে দেখে ফিলিস্তিনি মায়ের বাঁধভাঙা আনন্দ

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেড় বছর ধরে ছেলের মৃত্যু ধরে নিয়ে শোকে কাটিয়েছেন পরিবার। মর্গে মর্গে খুঁজেছেন মরদেহ, এমনকি সংগ্রহ করেছেন মৃত্যু সনদও। অথচ ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক ঈদ নাঈল আবু শার এতদিন ইসরায়েলের ওফার কারাগারে জীবিত অবস্থায় আটক ছিলেন। গত ৪ মে এক আইনজীবীর ফোনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শোকের বাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হয় আনন্দের উৎসবে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজের সন্ধানে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নেটজারিম করিডরের কাছে গিয়ে নিখোঁজ হন ঈদ। এলাকাটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যুর কেন্দ্র’ নামে পরিচিত, যেখানে এর আগেও বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

ঈদের বাবা নাঈল আবু শার জানান, ছেলেকে খুঁজতে তিনি প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গের দরজায় ধরনা দিয়েছেন। আল-আকসা, আল-আওদা ও নুসেইরাত হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তাও চেয়েছিল। কিন্তু কোনো সংস্থার কাছেই ঈদের আটক থাকার কোনো নথি ছিল না।

একসময় পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে মৃত ধরে নেয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করা হয়, শোকপালনের জন্য তাবুও খাটানো হয়েছিল।

তবে ছেলের সন্ধান পেয়েও মাহা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে সে বেঁচে আছে। কিন্তু এখন আরও ভয় হচ্ছে — ওই কারাগারের ভেতরে সে কী সহ্য করছে। আমি তখনই সত্যিকারের শান্তি পাব, যখন তাকে আবার নিজের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারব।’

ঈদের এই ঘটনা গাজার হাজারো পরিবারের অনিশ্চয়তার একটি প্রতীকী চিত্র। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের পরিচালক নাদা নাবিলের তথ্য মতে, বর্তমানে ৭ থেকে ৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ইসরায়েলের কারাগারে গুম অবস্থায় থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাবিলের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত কৌশল, যা স্বজনহারা পরিবারগুলোর মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেক পরিবার জানতেই পারছে না, তাদের প্রিয়জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আছেন, গণকবরে নাকি কোনো কারাগারে। এই অনিশ্চয়তাকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘সাসপেন্ডেড গ্রিফ’ বা ‘স্থগিত শোক’ বলে চিহ্নিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

বন্দী ছেলেকে দেখে ফিলিস্তিনি মায়ের বাঁধভাঙা আনন্দ

আপডেট সময় ১০:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

দেড় বছর ধরে ছেলের মৃত্যু ধরে নিয়ে শোকে কাটিয়েছেন পরিবার। মর্গে মর্গে খুঁজেছেন মরদেহ, এমনকি সংগ্রহ করেছেন মৃত্যু সনদও। অথচ ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক ঈদ নাঈল আবু শার এতদিন ইসরায়েলের ওফার কারাগারে জীবিত অবস্থায় আটক ছিলেন। গত ৪ মে এক আইনজীবীর ফোনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শোকের বাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হয় আনন্দের উৎসবে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজের সন্ধানে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নেটজারিম করিডরের কাছে গিয়ে নিখোঁজ হন ঈদ। এলাকাটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যুর কেন্দ্র’ নামে পরিচিত, যেখানে এর আগেও বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

ঈদের বাবা নাঈল আবু শার জানান, ছেলেকে খুঁজতে তিনি প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গের দরজায় ধরনা দিয়েছেন। আল-আকসা, আল-আওদা ও নুসেইরাত হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তাও চেয়েছিল। কিন্তু কোনো সংস্থার কাছেই ঈদের আটক থাকার কোনো নথি ছিল না।

একসময় পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে মৃত ধরে নেয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করা হয়, শোকপালনের জন্য তাবুও খাটানো হয়েছিল।

তবে ছেলের সন্ধান পেয়েও মাহা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে সে বেঁচে আছে। কিন্তু এখন আরও ভয় হচ্ছে — ওই কারাগারের ভেতরে সে কী সহ্য করছে। আমি তখনই সত্যিকারের শান্তি পাব, যখন তাকে আবার নিজের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারব।’

ঈদের এই ঘটনা গাজার হাজারো পরিবারের অনিশ্চয়তার একটি প্রতীকী চিত্র। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের পরিচালক নাদা নাবিলের তথ্য মতে, বর্তমানে ৭ থেকে ৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ইসরায়েলের কারাগারে গুম অবস্থায় থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাবিলের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত কৌশল, যা স্বজনহারা পরিবারগুলোর মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেক পরিবার জানতেই পারছে না, তাদের প্রিয়জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আছেন, গণকবরে নাকি কোনো কারাগারে। এই অনিশ্চয়তাকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘সাসপেন্ডেড গ্রিফ’ বা ‘স্থগিত শোক’ বলে চিহ্নিত করেন।