ময়মনসিংহ , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​মা ও তিন বোনের পাশে শেষ শয্যায়, বাকরুদ্ধ সিফাত ​ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা: ভরিতে দাম বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ​ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ​মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা: কোন কোন কেন্দ্র থেকে আবেদন করা যাবে? জেনে নিন বিস্তারিত ​বিশ্বকাপ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি: এবার ট্রফি কার ঘরে? জানালেন সেই তান্ত্রিক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: মুক্তি পেলেন ৩২০ রুশ-ইউক্রেনীয় সেনা মেসিকে নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস: যা এতদিন আড়ালে ছিল! কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন তটিনী? শুরু হয়েছে জল্পনা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া ১০৪ বছরের বৃদ্ধ আদালতের হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরলেন

চোখে জল বুকভরা ক্ষোভ, আর বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তিনি বলেছিলেন ‘নিজেকে পিতা ভাবতে লজ্জা হচ্ছে’ সেই বাবা ১০৪ বছরের বৃদ্ধ তছিম উদ্দিন অবশেষে ফিরেছেন তার একমাত্র ছেলের কাছেই। এদিকে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ প্রকাশের পর আদালতের মানবিক হস্তক্ষেপ এবং পাবনা সদর থানা পুলিশের তৎপরতায় অবসান ঘটেছে এক অসহায় বাবার মানবেতর জীবনের। রোববার (৩১ মে) রাতে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার (৩০ মে) আদালতের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
‎অসহায় তছিম উদ্দিন প্রামানিকের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে এক সন্তান নিয়েই ছিল তার ছোট্ট পরিবার। ছেলের থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ঠাঁই হয় মালিগাছা ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার অসহায় রেজাউল-স্ত্রী দম্পতির বাড়িতে। নিজেদের ছোট্ট ঘরেই তারা আশ্রয় দিয়েছিলেন এই অসহায় বৃদ্ধকে। ‎জানা গেছে যে, বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে নজরে আসে পাবনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের। তিনি তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ও ১৫৬ (৩) ধারা মোতাবেক পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য নির্দেশ দেন। সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলামকে ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

‎আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন রাতে গয়েশপুর ইউনিয়ন থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় ছেলে রায়হানকে। কিন্তু পরদিন সকালে থানায় এসে যখন বৃদ্ধ বাবা জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে পুলিশ ধরে এনেছে, তখন অতীতের সব ক্ষোভ ভুলে ‘বাজান, বাজান’ বলে চিৎকার করে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
‎ঈদের পরের দিন তুমুল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই বাবা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আদালত রায় দেন, প্রতি মাসে বাবাকে ২৫০০ টাকা ভরণপোষণ দিতে হবে, নিয়মিত দেখাশোনা করতে হবে এবং বাবা যখনই চাইবেন তাকে স্ব-সম্মানে নিজের কাছে রাখতে হবে। এই শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন। পরবর্তীতে আদেশের জন্য আগামী ৩০ জুলাই ধার্য করা হয়। এদিকে আদালতের কাজ শেষ হতেই যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই ছেলেই পরম মমতায় শতবর্ষী বাবাকে কোলে তুলে নিয়ে অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন।

‎এ বিষয়ে থানার পাবনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে ছেলেকে নিয়ে আসি। কিন্তু থানায় বাবা-ছেলের যে মিলন আমরা দেখেছি, তা সত্যিই আমাদের আবেগাপ্লুত করেছে।
রক্তের টান যে কতটা শক্তিশালী, তা এই পরিবারটি প্রমাণ করেছে। তাঁকে আমরা বাড়িতে দিয়ে আসছি। এখন আর অন্যের বাড়িতে থাকতে হবে না। ছেলেও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। ভবিষ্যতে আর এমন হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​মা ও তিন বোনের পাশে শেষ শয্যায়, বাকরুদ্ধ সিফাত

বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া ১০৪ বছরের বৃদ্ধ আদালতের হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরলেন

আপডেট সময় ০২:০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

চোখে জল বুকভরা ক্ষোভ, আর বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তিনি বলেছিলেন ‘নিজেকে পিতা ভাবতে লজ্জা হচ্ছে’ সেই বাবা ১০৪ বছরের বৃদ্ধ তছিম উদ্দিন অবশেষে ফিরেছেন তার একমাত্র ছেলের কাছেই। এদিকে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ প্রকাশের পর আদালতের মানবিক হস্তক্ষেপ এবং পাবনা সদর থানা পুলিশের তৎপরতায় অবসান ঘটেছে এক অসহায় বাবার মানবেতর জীবনের। রোববার (৩১ মে) রাতে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার (৩০ মে) আদালতের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
‎অসহায় তছিম উদ্দিন প্রামানিকের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে এক সন্তান নিয়েই ছিল তার ছোট্ট পরিবার। ছেলের থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ঠাঁই হয় মালিগাছা ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার অসহায় রেজাউল-স্ত্রী দম্পতির বাড়িতে। নিজেদের ছোট্ট ঘরেই তারা আশ্রয় দিয়েছিলেন এই অসহায় বৃদ্ধকে। ‎জানা গেছে যে, বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে নজরে আসে পাবনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের। তিনি তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ও ১৫৬ (৩) ধারা মোতাবেক পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য নির্দেশ দেন। সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলামকে ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

‎আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন রাতে গয়েশপুর ইউনিয়ন থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় ছেলে রায়হানকে। কিন্তু পরদিন সকালে থানায় এসে যখন বৃদ্ধ বাবা জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে পুলিশ ধরে এনেছে, তখন অতীতের সব ক্ষোভ ভুলে ‘বাজান, বাজান’ বলে চিৎকার করে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
‎ঈদের পরের দিন তুমুল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই বাবা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আদালত রায় দেন, প্রতি মাসে বাবাকে ২৫০০ টাকা ভরণপোষণ দিতে হবে, নিয়মিত দেখাশোনা করতে হবে এবং বাবা যখনই চাইবেন তাকে স্ব-সম্মানে নিজের কাছে রাখতে হবে। এই শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন। পরবর্তীতে আদেশের জন্য আগামী ৩০ জুলাই ধার্য করা হয়। এদিকে আদালতের কাজ শেষ হতেই যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই ছেলেই পরম মমতায় শতবর্ষী বাবাকে কোলে তুলে নিয়ে অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন।

‎এ বিষয়ে থানার পাবনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে ছেলেকে নিয়ে আসি। কিন্তু থানায় বাবা-ছেলের যে মিলন আমরা দেখেছি, তা সত্যিই আমাদের আবেগাপ্লুত করেছে।
রক্তের টান যে কতটা শক্তিশালী, তা এই পরিবারটি প্রমাণ করেছে। তাঁকে আমরা বাড়িতে দিয়ে আসছি। এখন আর অন্যের বাড়িতে থাকতে হবে না। ছেলেও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। ভবিষ্যতে আর এমন হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।