বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, সংস্কার শুধু রাষ্ট্রকাঠামোতে নয়, মানুষের ভেতরেও সংস্কার আনতে হবে। প্রজন্মের ভেতর সেই সংস্কারের কাজটা তা শিক্ষকদের করতে হবে। একটা সময় ছাত্রলীগ দ্বারা শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হতো, অপমানিত হতো। কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের পিকনিকের বাস ডাকাতির শিকার হয়েছে। এ কাজগুলো করছে আওয়ামী লীগের দোসররা। যারা পার্শ্ববর্তী দেশের সহায়তায় দেশে অরাজকতা তৈরি করছে। আমরা অনেক বুকের রক্ত দিয়েছি, সেই রক্তের সম্মান তখনই দেওয়া হবে যখন দেশ থেকে হানাহানি, রাহাজানি, সিন্ডিকেটের অবসান হবে।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিনিধি পরিষদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এটা ভাষার মাস, আর আজ আমরা মুক্ত ভাষায় কথা বলতে পারছি। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা মুখ খুলে কথা বলতে পারিনি। সেই সময় তারা (আওয়ামী লীগ) গুম, খুন, ধর্ষণসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা করেনি। এর মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের মৌলিক নীতিবোধ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি বেড়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া একটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য তার দলের নেতাকর্মীরা যে কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছেন, সেই সবের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই। বর্তমানে কিশোর গ্যাংসহ সামাজিক পরিস্থিতির যে অবক্ষয় ঘটেছে, তার থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে শিক্ষকরাই।
সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক শিক্ষায় খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন, মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস অবস্থায় রয়েছে। এখনকার তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। তবে এখন একটা পরিবর্তন এসেছে।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, একটা সময় কোনো শিক্ষক রিটায়ার করলে কেবল ছাতা বগলে করে বাড়ি ফিরে যেতেন। কিন্তু খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য পেনশন স্কিমের ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং আজকে আপনাদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, বিএনপি সরকার যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তা পূরণ হবে।
সভায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আ কা ফজলুল হক, মো. আবদুল্লাহ সরকার, সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান আনসারি, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।